সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জে মাছ ধরার সময় মুক্তিপণের দাবিতে ১০ জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যু ‘করিম শরীফ বাহিনী’র সদস্যরা।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) ভোরে বাগেরহাটের মোংলা সংলগ্ন জিউধারা স্টেশনের বরইতলা টহল ফাঁড়িসংলগ্ন শুয়োরমারা খাল এলাকায় এ অপহরণের ঘটনা ঘটে। অপহৃত জেলেদের মধ্যে পাঁচজনের বাড়ি মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের কচুবুনিয়া এলাকায় এবং বাকিরা বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা বলে নিশ্চিত করেছে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের গোয়েন্দা বিভাগ।
অপহৃত জেলে পরিবারের বরাত দিয়ে মোংলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচএম নাসিম উদ্দিন জানান, শুয়োরমারা খালে প্রায় ১৫-২০ জন জেলে মাছ ধরছিলেন। এসময় বনদস্যু বাহিনীর প্রধান করিম শরীফ তার দলবল নিয়ে ট্রলারযোগে অতর্কিতে সেখানে হানা দেয়। দস্যুরা সেখান থেকে ১১ জন জেলেকে তুলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে কচুবুনিয়া এলাকার আব্দুল হামিদের ছেলে সবুর নামে এক জেলেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ফিরে আসা সবুর জানিয়েছেন, তার সঙ্গে থাকা একই এলাকার মানিক শেখ, আবু বকর গাজী, জাকির ফরাজী, নুরজামাল শিকদার ও ওয়াহিদ মুন্সিকে মোটা অংকের মুক্তিপণের দাবিতে গভীর জঙ্গলে জিম্মি করে রাখা হয়েছে।
একই সময় মোরেলগঞ্জ এলাকার আরও পাঁচ জেলেকে দস্যুরা অপহরণ করে নিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। তবে অপহৃতদের পরিবারের কাছে এখনো নির্দিষ্ট কোনো মুক্তিপণের অংক দাবি করা হয়নি বলে স্থানীয় সূত্রে খবর পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন সদর দফতরের অপারেশন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার শামসুল আরেফিন জানান, জেলে অপহরণের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। বনদস্যুদের অবস্থান শনাক্ত করতে এবং অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে কোস্টগার্ডের বিশেষ অভিযান ও নজরদারি শুরু হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপহৃতদের উদ্ধারে বন বিভাগের সহায়তায় বনের বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
টিএইচএ/
