ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপে মার্কিন বাহিনীর শক্তিশালী বোমা হামলার পর দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এই কৌশলগত দ্বীপে ভয়াবহ হামলার দাবি করার পর শনিবার (১৪ মার্চ) পাল্টা কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো দেশের তেল ও জ্বালানি স্থাপনা তাদের পাল্টা নিশানায় থাকবে এবং সেসব স্থাপনা মুহূর্তেই ধ্বংস করে ছাইয়ের স্তূপে পরিণত করা হবে।
শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, খারগ দ্বীপে ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় সেগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। ট্রাম্প এটিকে মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী বোমা হামলা হিসেবে অভিহিত করেছেন। ইরানের মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ এই দ্বীপটি থেকে পরিচালিত হয়। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান বা অন্য কেউ যদি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়, তবে তিনি দ্বীপটির তেল অবকাঠামোতেও সরাসরি হামলার সিদ্ধান্ত নেবেন। এর মধ্যেই মার্কিন নৌবাহিনী ওই অঞ্চলে তেলবাহী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল জোরদার করেছে এবং জাপানে অবস্থানরত যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ট্রিপলিকে ২ হাজার ৫০০ মেরিন সেনাসহ এই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সেনাবাহিনীর আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের জ্বালানি খাতে কোনো আঘাত এলে ওয়াশিংটন সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের ওপর তাৎক্ষণিক প্রতিশোধ নেওয়া হবে। পেন্টাগনের তথ্যমতে, গত দুই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানের অন্তত ১৫ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এর বিপরীতে ইরানও নতুন করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েল এবং প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর আক্রমণ চালিয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, সংঘাতের ফলে ইরানের ভেতরে প্রায় ৩২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং গত ৮ মার্চ পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। অন্যদিকে, ইরানে আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনাসদস্যের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
টিএইচএ/
