ইরান থেকে প্রায় ১,০০০ পাউন্ড সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে দেশটিতে বিশেষ সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
রোববার (২৯ মার্চ) দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ট্রাম্প এই সামরিক বিকল্পটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন। এটি একটি অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান হতে পারে, যেখানে মার্কিন বাহিনীকে কয়েক দিন বা তারও বেশি সময় ইরানের অভ্যন্তরে অবস্থান করতে হবে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, ‘সর্বাধিনায়ককে সর্বোচ্চ বিকল্পের সুযোগ দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করাই পেন্টাগনের কাজ।’ তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। বর্তমানে এই অভিযানের ফলে মার্কিন সেনাদের ওপর কী ধরনের ঝুঁকি আসতে পারে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ধারণা, কাঙ্ক্ষিত ইউরেনিয়াম ইসফাহান পারমাণবিক কমপ্লেক্সের একটি ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ এবং নাতাঞ্জের একটি বিশেষ ভান্ডারে মজুত রাখা হয়েছে। এই উপাদানগুলো ৪০ থেকে ৫০টি বিশেষায়িত কন্টেইনারে সংরক্ষিত থাকতে পারে, যা সরিয়ে নিতে সুরক্ষামূলক ট্রাক ও বিশেষায়িত বিমানের প্রয়োজন হবে।
এদিকে, সামরিক বিশেষজ্ঞরা এই সম্ভাব্য অভিযানকে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে অভিহিত করেছেন। অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল জোসেফ ভোটেল বলেন, ‘এটা চটজলদি ভেতরে ঢুকে বেরিয়ে আসার মতো কোনো সাধারণ ব্যাপার নয়।’ তার মতে, মার্কিন বাহিনীকে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও স্থল হামলার হুমকির মুখে ইরানের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে ওই স্থানগুলো দীর্ঘ সময় সুরক্ষিত রাখতে হবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে কয়েক দিন থেকে এক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে, যা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সূচনা করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে ওয়াশিংটন সরাসরি যুদ্ধের বদলে কূটনৈতিক সমাধানের পথও খোলা রেখেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পাকিস্তান, তুরস্ক এবং মিশরের মতো দেশগুলো এই সংকট নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান আলোচনার মাধ্যমে স্বেচ্ছায় এই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করুক। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, ‘আমাদের হাতে বিভিন্ন বিকল্প রয়েছে, তবে আমরা চাইব ইরান স্বেচ্ছায় এটি হস্তান্তর করুক।’
টিএইচএ/
