আফগানিস্তানে ফিরে আসা শরণার্থী এবং অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের সহায়তা ও সেবা প্রদানের পরিধি আরও সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে দেশটির বর্তমান সরকার।
সম্প্রতি আফগানিস্তানে নিযুক্ত জাতিসংঘ সহায়তা মিশনের (ইউনামা) ডেপুটি হেড ইন্দ্রিকা রাতওয়াত্তের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে এই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন শরণার্থী ও প্রত্যাবাসন বিষয়ক মন্ত্রী মৌলভী আব্দুল কবির। বৈঠকে তারা বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন এবং মানবিক সহায়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বৈঠকে ইউনামার ডেপুটি হেড ইন্দ্রিকা রাতওয়াত্তে আফগানিস্তানে তার মিশন চলাকালীন ইসলামি আমিরাতের সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বিশেষ করে ফিরে আসা শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুতদের (আইডিপি) সেবায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করে জানান, আমিরাতের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে জাতিসংঘ এখন থেকে আফগানিস্তানে তাদের ত্রাণের একটি বড় অংশ দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নমূলক প্রকল্পে ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রাতওয়াত্তে আরও জানান, বর্তমান বৈশ্বিক সংকট সত্ত্বেও ইউনামা আফগানিস্তানের জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মানবিক সহায়তা তহবিল সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে এবং এই ধারা অব্যাহত থাকবে। তবে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সীমান্তের ‘কাল্পনিক রেখা’ বরাবর সাম্প্রতিক সংঘাত এবং এর ফলে বেসামরিক হতাহত ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনায় তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, পাকিস্তানের হামলায় আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং শরণার্থী শিবিরের কাছে অবিস্ফোরিত গোলা পড়ে রয়েছে, যা দ্রুত অপসারণ করা প্রয়োজন।
মৌলভী আব্দুল কবির জাতিসংঘের প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে তাদের মানবিক প্রচেষ্টার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান থেকে বিনা উস্কানিতে চালানো শেলবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত ছয়টি প্রদেশের বাস্তুচ্যুতদের এরই মধ্যে সরকারিভাবে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং আরও তিনটি প্রদেশের জন্য সহায়তা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মন্ত্রী দীর্ঘমেয়াদী টেকসই উন্নয়নের জন্য জাতিসংঘের প্রস্তাবসমূহকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করার আশ্বাস দেন এবং ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তথ্যসূত্র: বাকতার নিউজ এজেন্সি
টিএইচএ/
