গাজা উপত্যকায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনের ফলে যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। ধ্বংসপ্রাপ্ত সড়ক এবং জরাজীর্ণ যানবাহনের কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল এখন চরম ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে।
আল-জাজিরার ‘ভয়েস ফ্রম গাজা’ অনুষ্ঠানে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট ধ্বংসস্তূপের কারণে রাস্তাঘাট চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে, যা অসুস্থ ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতকে অসম্ভব করে তুলেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সড়কগুলো এখন ইটের স্তূপ আর ধ্বংসাবশেষে পূর্ণ। জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট এবং খুচরা যন্ত্রাংশের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহনগুলো মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে গাজায় যেসব যানবাহন চলাচল করছে, সেগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী এবং অনিরাপদ। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও ছোট গাড়ির দেখা মেলা দুষ্কর, যা বড় পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত নয়। একজন ভুক্তভোগী জানান, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যেতে আগে যেখানে অল্প সময় লাগত, এখন ধ্বংসপ্রাপ্ত সড়কের কারণে সেখানে পৌঁছাতে দুই ঘণ্টার বেশি সময় লাগছে। বিশেষ করে রোগীরা যখন উঁচু-নিচু ও কাঁচা রাস্তায় যাতায়াত করেন, তখন তাদের শারীরিক কষ্ট বহুগুণ বেড়ে যায়। এক বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, “আমাদের জীবন এখন অবর্ণনীয়; গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই যন্ত্রণায় পিঠ ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়।”
পরিবহন সংকটের পাশাপাশি গাজায় এখন তীব্র নগদ অর্থ বা তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে। ইন্টারনেটের ধীরগতির কারণে ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহার করে চালকদের ভাড়া পরিশোধ করাও দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে গাজার পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ইসরায়েলি হামলায় উপত্যকার প্রায় ৭০ শতাংশ যানবাহন ধ্বংস হয়েছে এবং ৮০ শতাংশ সড়ক ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জ্বালানি সংকটের সঙ্গে অবকাঠামোগত এই বিশাল ক্ষয়ক্ষতি গাজার পরিবহন ব্যয়কে আকাশচুম্বী করে তুলেছে, যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
তথ্যসূত্র: আলজাজিরা
টিএইচএ/
