ইরানের ভেতরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে কুর্দিদের মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের কাছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র পাঠানোর দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রবিবার (৬ এপ্রিল) রাতে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, চলমান যুদ্ধ শুরুর কয়েক সপ্তাহ আগে যখন ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় ব্যস্ত ছিল, তখনই গোপনে এই অস্ত্র পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেন, “আমরা বিক্ষোভকারীদের কাছে প্রচুর বন্দুক পাঠিয়েছিলাম।” তবে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবি করেন, কুর্দিরা সেই সব অস্ত্রের বড় অংশ নিজেদের কাছে রেখে দিয়েছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইরানে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ শুরু হয়। সেই সময় ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-সহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে, বিক্ষোভকারীদের বিদেশি মদদে সশস্ত্র করা হচ্ছে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে, বিক্ষোভ চলাকালীন ইরান সরকার প্রায় ৪৫ হাজার বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে। তবে এই সংখ্যার সপক্ষে কোনো স্বাধীন যাচাইকৃত তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ইরানের কুর্দি বিরোধী গোষ্ঠীগুলো ট্রাম্পের এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরাকভিত্তিক কুর্দি সংবাদমাধ্যম ‘রুদাও’-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ডেমোক্রেটিক পার্টি অফ ইরানি কুর্দিস্তান (কেডিপিআই), কোমালা পার্টি এবং কুর্দিস্তান ন্যাশনাল আর্মির মতো সংগঠনগুলো ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছে। কেডিপিআই-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজিফ কাদেরি বলেন, “আমরা কোনো অস্ত্র পাইনি। আমাদের কাছে যে অস্ত্র আছে তা ৪৭ বছরের পুরনো, যা আমরা বাজার থেকে বা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সংগ্রহ করেছি। আমাদের নীতি শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানানো, অস্ত্র ব্যবহার করা নয়।” কুর্দিস্তান ন্যাশনাল আর্মির জেনারেল কমান্ডের সদস্য হামনো নকশবন্দি বলেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশ থেকে একটি গুলিও পাইনি।”
ইরান সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভে ৩,১১৭ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেক পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। তেহরান বিক্ষোভকারীদের ‘দাঙ্গাভাজ’, ‘সন্ত্রাসী’ ও ‘বিদেশি চর’ হিসেবে অভিহিত করে আসছে। তবে হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানুয়ারির শেষ নাগাদ ৬,৮৭২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে এবং আরও ১১ হাজার মামলা তদন্ত করছে। এমনকি জাতিসংঘের বিশেষ দূতের মতে এই সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন কুর্দি বিদ্রোহীরা বছরের পর বছর ধরে তেহরান বিরোধী তৎপরতা চালিয়ে আসছে এবং ইরান-ইরাক সীমান্ত অঞ্চলে সক্রিয় রয়েছে। সিআইএ-এর কুর্দি গোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করার দীর্ঘ ইতিহাস থাকলেও এবারের অস্ত্র পাঠানোর দাবি নিয়ে কুর্দিদের অস্বীকার নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
টিএইচএ/
