অন্তর একটি পাত্রের মতো। আমরা যেভাবে পান করার আগে পাত্রটি পরিষ্কার কিনা দেখি, ঠিক সেভাবে নিজের হৃদয়কেও পবিত্র রাখা জরুরি। অপবিত্র পাত্রে যেমন শরবত পান করতে মন চায় না, তেমনি অপবিত্র অন্তরে আল্লাহর ভালোবাসা স্থান পায় না।
আল্লাহর মহব্বত, ইশক ও সত্যিকার ইলম লাভ করতে হলে অন্তরকে নির্মল রাখা আবশ্যক। হিংসা, বিদ্বেষ, কুটিলতা ও পরশ্রীকাতরতা দূর করতে হবে। অন্তর পবিত্র হলে সেখানেই আল্লাহর ভালোবাসা বিকশিত হয়—আর তার প্রভাব পড়ে মানুষের চিন্তা ও আচরণে। তখন মানুষ হয় নম্র, সহানুভূতিশীল ও কল্যাণকামী।
যাদের অন্তরে আল্লাহর ভালোবাসা থাকে, তারা কখনো অপরকে কষ্ট দেয় না। গীবত করে না, অন্যের দোষ খোঁজে না, বরং সবার জন্য কল্যাণ কামনা করে। কারণ অন্তরের অপবিত্রতা আল্লাহর মহব্বতের পথে বড় বাধা।
আমরা প্রায়ই বাহ্যিকতা দেখে মানুষকে বিচার করি—পোশাক, রূপ বা অনুসারীর সংখ্যা দেখে কাউকে বড় মনে করি। কিন্তু প্রকৃত মর্যাদা অন্তরের পবিত্রতার ওপর নির্ভর করে। বাহ্যিক সব কিছু অর্থহীন, যদি অন্তর অশুদ্ধ হয়।
দুঃখজনক, আজ অনেকেই নিজেদের গণ্ডির বাইরে অন্য কাউকে গ্রহণ করতে পারে না অন্য পীর বা অন্য পথের অনুসারীদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে। অথচ প্রকৃত আল্লাহপ্রেমিক সব মানুষকে ভালোবাসে। কারণ সবাই আল্লাহর সৃষ্টি, সবাই তাঁর পথে চলারই চেষ্টা করছে।
অন্তরের ওপর যে পর্দা পড়ে থাকে, তা মূলত স্বার্থপরতা, বস্তুবাদী চিন্তা ও অহংকারের ফল। এই পর্দা দূর না করলে অন্তরে আল্লাহর ভালোবাসা জাগ্রত হয় না। বাহ্যিক ইবাদত বা অনুসারী যতই থাকুক, অন্তর শুদ্ধ না হলে প্রকৃত শান্তি লাভ সম্ভব নয়।
আল্লাহ আমাদের অন্তরকে পবিত্র করার তাওফিক দান করুন। অন্তরে তাঁর ভালোবাসা ও ইলম দান করুন, যেন আমরা নিজেদের জীবন বদলাতে পারি—এবং পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে পারি।
একজন প্রকৃত আধ্যাত্মিক মানুষ কখনো সন্ত্রাস বা ভয়ের পথ বেছে নেয় না; বরং সে ছড়ায় শান্তি, সহমর্মিতা ও কল্যাণের বার্তা।
লেখক : পরিচালক, সেন্টার ফর স্প্রিচুয়্যাল স্টাডিজ
