কানাডার ফেডারেল নির্বাচনে অন্টারিও প্রদেশের টরন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম। তাঁর এই ঐতিহাসিক বিজয় কানাডার মূলধারার রাজনীতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবস্থানকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এই অর্জনের মাধ্যমে ডলি বেগম প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি হিসেবে কানাডার ফেডারেল পার্লামেন্টের সদস্য (এমপি) হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন।
ডলি বেগমের এই বিশাল সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডলি তাঁর সম্প্রদায়ের উন্নত ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত জোরালো ও কার্যকর লড়াই চালিয়ে গেছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা একটি ন্যায়পরায়ণ ও সমৃদ্ধ কানাডা গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টিও তাঁর এই জয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানিয়েছে, ডলি দীর্ঘদিন ধরে গণমানুষের অধিকার আদায়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করেছেন এবং এখন থেকে তিনি পার্লামেন্টে লিবারেল টিমের অংশ হিসেবে সেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন।
এর আগে ডলি বেগম অন্টারিও প্রদেশের প্রাদেশিক পার্লামেন্টের সদস্য হিসেবে অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৮ সালে মাত্র ২৯ বছর বয়সে তিনি প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হিসেবে কানাডার প্রাদেশিক পার্লামেন্টে নির্বাচিত হয়ে বিশ্বজুড়ে চমক সৃষ্টি করেছিলেন। সেই সময় তিনি নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও পরবর্তীতে লিবারেল পার্টিতে যোগ দেন। রাজনীতিতে আসার পর থেকেই তিনি অভিবাসন সেবা, বিদেশি শিক্ষার স্বীকৃতি এবং নাগরিকত্ব বিষয়ক জটিলতা সমাধানে বিরোধী দলের সমালোচক বা ‘অপজিশন ক্রিটিক’ হিসেবে অত্যন্ত বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে আসছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে ডলি বেগম ১৯৮৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব বাংলাদেশে কাটানোর পর সপরিবারে কানাডায় পাড়ি জমান তিনি। মৌলভীবাজারের এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে আজ তিনি বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আসীন হয়েছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তাঁর এই জয় কানাডায় বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় নতুন গতির সঞ্চার করবে। ইতোমধ্যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, জনসেবায় তাঁর অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার কারণে নবগঠিত কানাডীয় সরকারে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোনো মন্ত্রিত্ব বা দায়িত্ব পেতে পারেন।
টিএইচএ/
