শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কওমি শিক্ষাবিদদের বৈঠক, আরবি শিক্ষক নিয়োগে ‘সুখবরের’ আশ্বাস

by hsnalmahmud@gmail.com

আব্দুল্লাহ কাসিম আজওয়াদ >>

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সঙ্গে কওমি মাদ্রাসার নেতৃবৃন্দের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে আরবি শিক্ষক নিয়োগ, দাওরায়ে হাদিসের সনদের মান নির্ধারণসহ কওমি শিক্ষাব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।

বিজ্ঞাপন
banner

বুধবার (২২ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের বিষয়টি ৩৬ নিউজকে নিশ্চিত করেছেন মাওলানা যুবায়ের বিন মুহসিন। তিনি জানান, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজীসহ কওমি মাদ্রাসার নেতৃবৃন্দ শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

মাওলানা যুবায়ের বিন মুহসিন বলেন, ‌‘আরবি শিক্ষক নিয়োগ এবং দাওরায়ে হাদিস সনদের মান নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইতিবাচক সিদ্ধান্তের আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। আমরাও আশাবাদী ইনশাআল্লাহ।’

বৈঠকে কওমি শিক্ষাবিদদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মুফতি শামসুল আলম, মুফতি রেজাউল করীম আবরারসহ অন্যান্যরা।

বৈঠক শেষে মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী বলেন, কওমি সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আলেম সমাজের সঙ্গে ধারাবাহিক পরামর্শ করছে। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই এ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি জানান, বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কয়েকটি বিষয় আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো, কওমি সনদধারীদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় বিষয়ের শিক্ষক পদে আবেদন করার সুযোগ।

তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে এ বিষয়ে ঘোষণা দিয়েছে এবং বিষয়টি এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি ধর্মীয় সেক্টর এবং শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে ধর্মীয় বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে কওমি সনদের মূল্যায়নের বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে।

মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী আরও জানান, বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে কওমি শিক্ষার্থীদের যে প্রতিবন্ধকতাগুলো রয়েছে, সেগুলো দ্রুত দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে বিদেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বৈঠকে উঠে এসেছে।

এছাড়া জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) যোগ্য আলেম অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। পাঠ্যসূচিতে ইসলামবিদ্বেষী বা আকিদাবিরোধী কোনো বিষয় অন্তর্ভুক্ত না হয়—এ লক্ষ্যেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বৈঠকে মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনারত কওমি শিক্ষাবিদরা

এদিকে বৈঠক শেষে মুফতি রেজাউল করীম আবরার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, ‘দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ এবং ওই পদে কওমি আলেমদের সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।’

তিনি দাবি করেন, নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী কওমি আলেমদের ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে সুযোগ দিতে দ্রুত গেজেট প্রকাশের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের শিক্ষা সিলেবাসে অসঙ্গতি নিয়ে মুফতি আবদুল্লাহ মাসুম হাফিজাহুল্লাহর গবেষণাকর্ম শিক্ষামন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ওই গবেষণার প্রশংসাও করেছেন মন্ত্রী।

দেশের প্রাথমিক শিক্ষায় ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ এবং কওমি আলেমদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হলে প্রাথমিক শিক্ষায় ধর্মীয় শিক্ষার কাঠামো এবং কওমি শিক্ষার স্বীকৃতি প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

হাআমা/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222