আফলাতুন শাহ :: ক্যামেরাযুক্ত ফোন পেলেই বহিষ্কার করা হবে বলে জানিয়েছেন জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া নানুপুরের মুহতামিম মাওলানা সালাহউদ্দিন। তিনি বলেন, কোনো শিক্ষার্থীর কাছে ক্যামেরাযুক্ত মোবাইল ফোন পাওয়া গেলে তাকে সাথে সাথে বহিষ্কার করা হবে এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের সুপারিশ বা তদবির গ্রহণযোগ্য হবে না।
গতকাল (২১ এপ্রিল ২০২৬ মঙ্গলবার) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত একটি প্রচারপত্র ও নানুপুর ওবাইদিয়া জমিরী সংস্থা নামে নির্ভরযোগ্য একটি পেজ থেকে এ বার্তা প্রচার করা হয়।
জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া নানুপুর, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রামের একটি কঠোর নির্দশনামূলক প্রচারপত্রে বলা হয়েছে, এতদ্বারা জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া নানুপুর, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জ্ঞাতার্থে জানানো যাচ্ছে, চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকে অত্র জামিয়ায় ক্যামেরাযুক্ত মোবাইলফোন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো। অতএব কোনো শিক্ষার্থীর কাছে মোবাইলফোন পাওয়া গেলে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে। পরে এ জামিয়ায় আর ভর্তির কোনো সুযোগ থাকবে না। কোনো ব্যক্তির সুপারিশও গ্রহণ করা হবে না।
মোবাইলসংক্রান্ত ঘোষণা মানতে কঠোর নির্দেশ প্রদান করা হলো।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নেটিজেনরা এ নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে নানা ধরনের মন্তব্য করেছেন।
মোঃ মোছাদ্দেক বিল্লাহ লিখেছেন, আলহামদুলিল্লাহ। সঠিক সিদ্ধান্ত সময় উপযোগী। হেফজ বিভাগের শিক্ষক যদি ক্লাসে মোবাইল টিপতে না পারে ছাত্র হয়ে কীভাবে তারা মোবাইল চালায়। আবার ক্লাস করে না।
মুহাম্মদ আবু হাসান চৌধুরী লিখেছেন, আপনারা যেসব ভিডিও প্রচার করেন মোবাইল না থাকলে সেগুলো কীভাবে দেখবো?
এদিকে মোবাইল ব্যবহার ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে জামিয়া ইসলামিয়া নূরিয়া মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস (সর্বোচ্চ শ্রেণি) বিভাগের সব শিক্ষার্থীকে একযোগে বহিষ্কার করার মতো ঘটনা ঘটেছে। মাদ্রাসাটির শিক্ষক মাওলানা শফী কাসেমী নদভী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রোববার (১৯ এপ্রিল) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, বাংলাদেশের কওমী মাদ্রাসা অঙ্গনে এটি একটি নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত। আসাতিযায়ে কেরামের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি বছরের দাওরার সব শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি মাদ্রাসায় মোবাইল চেকিং চালানো হলে দাওরার শিক্ষার্থীরা আগেই বিষয়টি আঁচ করতে পেরে মোবাইল সরিয়ে ফেলে। ফলে তাদের কাছ থেকে মোবাইল উদ্ধার না হলেও অন্যান্য জামাত থেকে মোবাইল পাওয়া যায়। তবে অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরা শৃঙ্খলা বজায় রাখায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, দাওরার শিক্ষার্থীরা মাগরিবের সময় বুখারী শরীফের দরস বর্জন করে দারুল হাদিস কক্ষে তালা লাগিয়ে দেন এবং বিভিন্ন দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে মাদ্রাসার প্রবেশপথেও তালা ঝুলিয়ে দেয়।
শিক্ষকদের মতে, দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হলো আদব-আখলাক শিক্ষা ও বিশুদ্ধ ইলমের খেদমত করা। বারবার সুযোগ দেওয়ার পরও কেউ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া বিকল্প থাকে না।
এদিকে, দাওরার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্তরের সব শিক্ষার্থীকে একযোগে বহিষ্কারের ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এটিকে কওমী মাদ্রাসা অঙ্গনে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
এদিকে ৩৬নিউজে এমন খবর প্রকাশিত হলে, বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা এ প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের অভিমত জানায়। তারা বলেন, যেভাবে প্রচার করা হয়েছে সেভাবে আমরা কোনো কিছু করিনি। আমরা ক্ষমা পাওয়ার আশাতেই ক্ষমা চেয়েছি।
