সাড়ে ১৩ হাজার কোটির ১৪ প্রকল্প অনুমোদন

by hsnalmahmud@gmail.com

টেবিলে উত্থাপিত হওয়ার পর বাদ দেওয়া হলো সচিবালয়ে ২১ তলা নতুন ভবন নির্মাণ প্রকল্প। আলোচিত এই ভবন নির্মাণে খরচ ধরা হয়েছিল ৬৪৯ কোটি ২৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা। এ ছাড়া চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স এবং গণগ্রন্থাগার অধিদফতরের বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্প দুটিও বাদ পড়েছে।

নতুন সরকারের দ্বিতীয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় ১৩ হাজার ৪৪৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৪টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে পাঁচটি নতুন, পাঁচটি সংশোধিত ও চারটি মেয়াদ বৃদ্ধি-সংক্রান্ত প্রকল্প রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
banner

এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৮ হাজার ৮৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ পাঁচ হাজার ৩৪০ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে সড়ক খাতের তিনটি প্রকল্পে বারবার মেয়াদ বৃদ্ধি পাওয়ায় এর কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সভায়।

রোববার প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, নতুন ভবন হলে ট্রাফিক চাপ কেমন হবে, সেটা নিয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) দিয়ে গবেষণা করানোর কথা বলা হয় সভায়। এ ছাড়া ভবিষ্যতে সচিবালয় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে যাওয়ার কথা আছে, সেটি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তাই প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘শহরাঞ্চলের জনগণের জন্য সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ’ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে, যা নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে সহায়ক হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘শুল্ক আধুনিকায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়ন (১ম সংশোধন)’ প্রকল্প রাজস্ব ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়াবে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘পিপিআর রোগ নির্মূল এবং খুরা রোগ নিয়ন্ত্রণ (৩য় সংশোধন)’ প্রকল্প প্রাণিসম্পদ খাতে রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ ছাড়া স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনুমোদিত চারটি প্রকল্প হলো- জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ ও ঝুঁকি হ্রাস (নদীভিত্তিক) প্রকল্প (১ম সংশোধন), চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আওতাধীন পরিচ্ছন্ন কর্মী নিবাস নির্মাণ (১ম সংশোধিত), ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন (২য় সংশোধিত) এবং ঢাকা শহরে জরুরি পানি সরবরাহ প্রকল্প। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নগর অবকাঠামো উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধি পাবে।

অন্যদিকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। সেগুলো হলো- ময়মনসিংহ বিভাগে পাঁচটি জলবায়ু সহনশীল সেতু নির্মাণ, পার্বত্য চট্টগ্রামের সীমান্ত সড়ক নির্মাণ (২য় পর্যায়), বৈরাগীরপুল (বরিশাল)-টুমচর-বাউফল (পটুয়াখালী) জেলা মহাসড়ক (জেড-৮৯১০) উন্নয়ন (১ম সংশোধিত), বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর জাতীয় মহাসড়ক (এন-১৮০৯) উন্নয়ন (১ম সংশোধিত) এবং বরিশাল (দিনারেরপুল)-লক্ষ্মীপাশা-দুমকী সড়কের ১৪তম কিলোমিটারে গোমা সেতু নির্মাণ (১ম সংশোধিত)।

এসব প্রকল্প দেশের দক্ষিণাঞ্চল ও পার্বত্য অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। তবে সড়ক খাতের বৈরাগীরপুল-টুমচর-বাউফল সড়ক উন্নয়ন, বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর মহাসড়ক উন্নয়ন ও গোমা সেতু নির্মাণ- এই তিন প্রকল্পে বারবার মেয়াদ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ অনুসন্ধানে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনুমোদিত দুটি প্রকল্প হলো- ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন (১ম পর্যায়) এবং মধুখালী থেকে কামারখালী হয়ে মাগুরা শহর পর্যন্ত ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ (১ম সংশোধন)। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে রেল যোগাযোগব্যবস্থার সক্ষমতা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে। এ ছাড়া সভায় পরিকল্পনামন্ত্রীর ইতিমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের ৩৩টি প্রকল্প সম্পর্কেও একনেককে অবহিত করা হয়েছে, যা বিভিন্ন খাতে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, প্রকল্প নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশটা খুব স্পষ্ট। ব্যয়ের দিক থেকে আমাদের সাশ্রয়ী হতে হবে। এ ছাড়া ব্যয়গুলো কোন কোন খাতে হচ্ছে, সেগুলো যৌক্তিকতা যাচাই-বাছাই করা। যে যে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে সেগুলো আসলে কতটা সামগ্রিকভাবে আমাদের জনগণের জীবনে যে উন্নতির চিন্তা করা হয়েছে, বর্তমান সরকারকে তার যে নির্বাচনি ইশতেহার পরিকল্পনা সবগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য কি না? এসব দিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন।

সামগ্রিকভাবে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের। সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ কমিটির সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

হাআমা/

 

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222