পাবনার রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে শুরু হচ্ছে স্বপ্নের বিদ্যুৎ উৎপাদন। আগামী মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং কার্যক্রমের উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মন্ত্রী জানান, প্রথম ইউনিটের জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর আগামী ডিসেম্বর অথবা ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে এই ইউনিট থেকে পূর্ণমাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হতে পারে। প্রথম ইউনিটের ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় ইউনিটটি এর প্রায় এক বছর পর পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে গত ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় ‘কমিশনিং লাইসেন্স’ প্রদান করে। এই আইনি ও কারিগরি অনুমোদনের ফলেই ২৮ এপ্রিল থেকে জ্বালানি লোডিং শুরুর পথ প্রশস্ত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সময় স্বল্পতার কারণে এই ঐতিহাসিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারছেন না। তবে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী এবং রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীসহ একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল রূপপুর প্রকল্প এলাকায় উপস্থিত থেকে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা ‘রোসাটম’-এর মহাপরিচালকের একটি সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ যুগে বাংলাদেশের এই প্রবেশ জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
টিএইচএ/
