বিশ্বের সকল রাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন ও বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করাকে আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আফগানিস্তানের ইসলামিক স্টেটের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তারা আন্তর্জাতিক স্তরে আফগানিস্তানের রাজনৈতিক অবস্থান সুসংহত করতে এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে গঠনমূলক যোগাযোগ বজায় রাখতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
মুজাহিদ বলেন, আফগান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশে তাদের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মিশনগুলো সচল করতে সক্ষম হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আফগানিস্তানের ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততা এবং বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক অগ্রগতির প্রতিফলন। তিনি আরও জানান, সৌদি আরব এবং জাপানের মতো দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যমান কূটনৈতিক বিষয়গুলো যথাযথভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এসব দেশে দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিদেশে আফগান দূতাবাস ও কনসুলেটগুলোতে ইসলামিক স্টেটের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি কনসুলার সেবা উন্নত করতে এবং কূটনৈতিক বন্ধন দৃঢ় করতে মৌলিক ভূমিকা পালন করবে। বিশেষ করে পাসপোর্ট ইস্যু করা, পরিচয়পত্র প্রদান এবং প্রবাসী আফগানদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে নাগরিকদের আস্থা অর্জন এবং বিশ্বজুড়ে আফগানিস্তানের একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করা সম্ভব হবে। বিশ্লেষক আব্দুল সাদিক হামিদজয় বলেন, যেসব দেশ বাস্তবতাকে অস্বীকার করে এখনো বর্তমান ব্যবস্থার কাছে দূতাবাস হস্তান্তর করছে না, তারা মূলত অবাস্তব প্রত্যাশার ওপর ভিত্তি করে এই নীতি গ্রহণ করেছে।
উল্লেখ্য, গত সৌর বছরে জাপান ও অস্ট্রেলিয়ায় আফগান দূতাবাসের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলেও বর্তমান প্রশাসন তা পুনরায় সচল করতে নানামুখী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
টিএইচএ/
