ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে দীর্ঘ কয়েক মাসের আপেক্ষিক শান্ত পরিস্থিতি ভেঙে আবারও ভয়াবহ জাতিগত সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। চলতি মাসের শুরুতে বোমা বিস্ফোরণে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যটি। গত ৭ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই দফার সংঘাতে এ পর্যন্ত অন্তত সাতজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাজ্যজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
সহিংসতার সূত্রপাত হয় গত ৭ এপ্রিল বিষ্ণুপুর জেলার একটি বসতবাড়িতে বোমা বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে। ওই ঘটনায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) এক সদস্যের পাঁচ ও ছয় বছর বয়সী দুই সন্তান নিহত হয় এবং তাদের মা গুরুতর আহত হন। এই হামলার জন্য মেইতেই নেতারা কুকি যোদ্ধাদের দায়ী করলেও কুকি গোষ্ঠীগুলো তা সরাসরি অস্বীকার করেছে। এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে উপত্যকা অঞ্চলে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন সংগঠনের ডাকা বিক্ষোভে রাজধানী ইম্ফলসহ প্রধান শহরগুলো অচল হয়ে পড়ে। সড়ক অবরোধ ও তেলের ট্যাংকারে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে বহু মানুষ আহত হয়েছেন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ও সংঘর্ষে আরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
গত ৭ এপ্রিলের পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত সাতজন নিহত এবং ১২ জনের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া গত ১৮ এপ্রিল উখরুল অঞ্চলে সশস্ত্র হামলায় এক অবসরপ্রাপ্ত সেনাসহ আরও দুইজন প্রাণ হারান।
মণিপুরে হিন্দু মেইতেই জনগোষ্ঠী এবং পাহাড়ি অঞ্চলের প্রধানত খ্রিষ্টান কুকি-জো সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা দ্বন্দ্ব বর্তমানে কার্যত গৃহযুদ্ধের রূপ নিয়েছে। মিয়ানমারের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত থাকা এই রাজ্যটি এখন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। নরেন্দ্র মোদি সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় শাসন জারি এবং অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হলেও পরিস্থিতির কোনো স্থায়ী সমাধান দৃশ্যমান হচ্ছে না। চলমান এই অস্থিরতায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক এই হত্যাকাণ্ড ও বোমাবাজি মণিপুরকে আবারও গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে, যা দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রক্রিয়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
টিএইচএ/
