জনপ্রিয় ইসলামি স্কলার ও আলোচিত ধর্মীয় বক্তা ড. মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারীর নাম ও ছবি ব্যবহার করে অনলাইনে প্রতারণার মাধ্যমে যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রির অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাজধানীর ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ জানান, এই চক্রটি অত্যন্ত চতুরতার সাথে ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভুয়া বিজ্ঞাপন প্রচার করত। সেসব বিজ্ঞাপনে ড. মিজানুর রহমান আজহারীর ছবি ব্যবহার করে দাবি করা হতো যে, ওষুধগুলো তাঁর সুপারিশকৃত বা বিশেষ ফর্মুলায় তৈরি। মূলত সাধারণ মানুষের ধর্মীয় আবেগ এবং আজহারীর জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে তারা এই ঘৃণ্য প্রতারণার জাল বিস্তার করেছিল। বিজ্ঞাপনে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য তারা কৃত্রিমভাবে তৈরি ‘সাফল্যের গল্প’ ও মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করত, যা দেখে সাধারণ মানুষ সহজে বিভ্রান্ত হতো।
পুলিশ আরও জানায়, এই চক্রটি উচ্চমূল্যে যেসব ওষুধ বা পণ্য বিক্রি করত, সেগুলো ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের এবং স্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এগুলো ছিল সম্পূর্ণ অকার্যকর। ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের প্রতি মানুষের সরলতাকে কাজে লাগিয়ে তারা কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের এই ১০ সদস্যকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়। অভিযানে তাদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন এবং বিপুল পরিমাণ অনুমোদনহীন ভুয়া ওষুধ জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অনলাইনে যেকোনো পণ্য কেনার ক্ষেত্রে, বিশেষ করে ওষুধ জাতীয় পণ্য ক্রয়ের আগে সেটির অনুমোদন ও সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে চলা এ ধরনের প্রতারণা রোধে ডিএমপির সাইবার মনিটরিং ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও প্রতারণার ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং এই চক্রের সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে।
টিএইচএ/
