আঞ্চলিক উত্তেজনা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের মাঝে পাকিস্তান সফর করছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সফরকালে তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে পৃথকভাবে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপাক্ষিক বিষয়াদি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে পাকিস্তানের ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দাম উপস্থিত ছিলেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা গুঞ্জন থাকলেও দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি বিষয়টিকে স্পষ্ট করেছেন। তেহরানে সাংবাদিকদের তিনি জানান, আব্বাস আরাঘচির ইসলামাবাদ সফরের সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক আলোচনার কোনো সম্পর্ক নেই। মূলত দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার করতেই এই সফরের আয়োজন করা হয়েছে। পারমাণবিক ইস্যুটি এই সফরের আলোচ্যসূচিতে নেই বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার মধ্যে নতুন এক সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) লন্ডনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণ অভিযানে অংশ নিতে পারে তুরস্ক। ফিদান জানান, কোনো চুক্তি হলে একটি আন্তর্জাতিক টেকনিক্যাল দল গঠন করা হতে পারে এবং তুরস্ক নীতিগতভাবে এ ধরনের মানবিক ও কৌশলগত উদ্যোগে অংশ নিতে আগ্রহী। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এই কারিগরি জোট যদি ভবিষ্যতে নতুন কোনো সংঘাতের দিকে মোড় নেয়, তবে আঙ্কারা তার অবস্থান পরিবর্তন করবে।
অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সামরিক অবস্থান নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। দেশটির বার্তা সংস্থা ইসনাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের চোরাবালিতে আটকা পড়েছে এবং সেখান থেকে সম্মান বাঁচিয়ে পালানোর পথ খুঁজছে। ইরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তিকে একটি প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শত্রু রাষ্ট্রগুলো এখন তেহরানের কৌশলী অবস্থানের কাছে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছে। আঞ্চলিক এই কূটনৈতিক তৎপরতা ও পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের আভাস দিচ্ছে।
টিএইচএ/
