ইরানের সাথে সম্ভাব্য আলোচনা ও সমঝোতার লক্ষ্যে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের পূর্বনির্ধারিত পাকিস্তান সফর বাতিল করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজের প্রত্যাশা অনুযায়ী ইরান সমঝোতার প্রস্তাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় শেষ মুহূর্তে এই সফর বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে তেহরানকে নতুন চুক্তিতে বাধ্য করার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন কঠোর ও চ্যালেঞ্জিং পথ বেছে নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শনিবার এক বিবৃতিতে ট্রাম্প জানান, ইরানের পক্ষ থেকে যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে তা হোয়াইট হাউজের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক নিম্নমানের। তিনি বলেন, “আমরা বারবার ১৫ ঘণ্টা বিমানে কাটিয়ে যাতায়াত করতে রাজি নই যদি শেষ পর্যন্ত আমাদের হাতে এমন কোনো নথি ধরিয়ে দেওয়া হয় যা যথেষ্ট ভালো নয়।” ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ওয়াশিংটন তেহরানের কাছ থেকে আরও বড় ধরনের ছাড় চায়। মূলত মার্কিন স্বার্থ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্নে ইরানকে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর চুক্তিতে আবদ্ধ করতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন।
ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রস্তাবটি কেন নাকচ করা হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো না হলেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পূর্ববর্তী আলোচনার ধারাবাহিকতায় ইরান আশানুরূপ নমনীয়তা প্রদর্শন করেনি। এই সফর বাতিলের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ইরানের ওপর মার্কিন চাপ অব্যাহত রাখার কৌশল হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা বা অন্য কোনো পদক্ষেপের দিকে হাঁটবে কি না, তা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে এই কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে উভয় পক্ষই তাদের পরবর্তী কৌশল নির্ধারণে ব্যস্ত সময় পার করছে।
টিএইচএ/
