দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানা প্রক্রিয়া শেষে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে শুরু হয়েছে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম। এর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় যুক্ত হলো বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার দুপুরে পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মার তীরঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, রুশ পরমাণু শক্তি করপোরেশনের (রোসাটম) মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা ‘রোসাটম’-এর মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ যৌথভাবে বাটন চেপে এই মাহেন্দ্রক্ষণের উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘আজকের এই দিনটি বাংলাদেশের দীর্ঘযাত্রার এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। রূপপুর প্রকল্প শুধু একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়, এটি আমাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও জাতীয় আত্মবিশ্বাসের প্রতীক।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই প্রকল্প জাতীয় গ্রিডে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ যুক্ত করার মাধ্যমে দেশের শিল্পায়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
রোসাটম-এর মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ তাঁর বক্তব্যে জানান, রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের রিয়্যাক্টরে জ্বালানি লোডিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি প্রাণ পেল।
তিনি বলেন, এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের আয়ুষ্কাল হবে অন্তত ১০০ বছর, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাংলাদেশকে পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে।
তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, দ্বিতীয় ইউনিটের কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে এবং আগামী বছর সেখানেও স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরু হতে পারে।
প্রকল্পের কারিগরি দিক তুলে ধরে জানানো হয়, রূপপুরে রাশিয়ার সর্বাধুনিক ‘ভিভিইআর-১২০০’ (VVER-1200) জেনারেশন থ্রি প্লাস প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। কেন্দ্রের দু’টি ইউনিট থেকে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
নিরাপত্তার বিষয়ে বিশেষ জোর দিয়ে মন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর কঠোর মানদণ্ড এবং দেশীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে প্রকল্পের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে।
হাআমা/
