নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত গণহত্যার স্মৃতি ও বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরে অনুষ্ঠিত হলো দুই দিনব্যাপী চিত্র প্রদর্শনী। বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের উদ্যোগে আয়োজিত ‘শাপলা শহীদচিত্র: অদেখা সত্যের ফ্রেম’ শীর্ষক এই প্রদর্শনী সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। সমাপনী দিনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক বলেন, ‘শাপলা থেকে জুলাই এক অবিচ্ছেদ্য ধারা।’
বুধবার (৬ মে) বিকাল পাঁচটায় সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
গতকাল (৫ মে ২০২৬) বিকাল তিনটায় জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত অডিটোরিয়ামে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মাওলানা মামুনুল হক।
কীভাবে হামলা চালানো হবে, কে কোথা থেকে আক্রমণ করবে, সবকিছু পূর্বপরিকল্পনা করেই তারা রণসাজে সজ্জিত ছিল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মাদ আব্দুল আজিজের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন লেখক ও গবেষক মঞ্জুর আহমেদ, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তাফাজ্জুল হক মিয়াজী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সাল আহমিদ, মাওলানা আবুল হাসনাত জালালী, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামান ও শাপলা স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল উদ্দিনসহ আরও অনেকে। অনুষ্ঠানে শাপলার শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অধিবেশনে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, শাপলা চত্বরে সেদিন সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি দেখেই বোঝা যায়, এটি ছিল পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ।
তিনি অভিযোগ করেন, কীভাবে হামলা চালানো হবে, কে কোথা থেকে আক্রমণ করবে, সবকিছু পূর্বপরিকল্পনা করেই তারা রণসাজে সজ্জিত ছিল।
তিনি আরও বলেন, ‘সেখানে দেড় লাখের বেশি বুলেট এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। কাজেই এটাকে ঠান্ডা মাথার খুন ছাড়া অন্য কিছু বলার সুযোগ নেই।’
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘২০১৩-এর শাপলা চত্বরের শাহাদাতের রক্তের পাটাতনের ওপর দাঁড়িয়েই চব্বিশের বিপ্লব সংগঠিত হয়েছে। শাপলা থেকে জুলাই এক অবিচ্ছেদ্য ধারা, এক অবিচ্ছিন্ন ধারা। ইনশাআল্লাহ এই ধারা বন্ধ হয়নি। ফ্যাসিবাদমুক্ত ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’
শাপলা গণহত্যাকে স্মরণে রাখার ক্ষেত্রে এই আয়োজন একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ এবং এটি শাপলাকে জীবন্ত রাখার প্রথম ধাপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবা হাকিম, সানজিদা ইসলাম তুলি, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, সিনিয়র সাংবাদিক শাহীন হাসনাত, ফরিদী নোমান, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বরা।
পরিদর্শন শেষে সংসদ সদস্য মাহবুবা হাকিম বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০১৩ সালে ফ্যাসিস্ট সরকার যে গণহত্যা চালিয়েছে, সেই গণহত্যা যেন দ্বিতীয়বার বাংলাদেশের মানুষ না দেখে, এটাই আমাদের কামনা। শহীদদের চেতনা ও প্রেরণা জিইয়ে রাখতে এ ধরনের আয়োজন আরও বাড়ানো দরকার।’
তিনি আরও বলেন, শাপলা গণহত্যাকে স্মরণে রাখার ক্ষেত্রে এই আয়োজন একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ এবং এটি শাপলাকে জীবন্ত রাখার প্রথম ধাপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
হাআমা/
