আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন ও তিনটি ক্যাটেল স্পেশাল ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
একই সঙ্গে ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে আগামী ১৩ মে থেকে এবং ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রি শুরু হবে ২১ মে থেকে। শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হবে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
গত মঙ্গলবার (৫ মে) রেলভবনে অনুষ্ঠিত এক প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে বৃহস্পতিবার (৭ মে) মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
সভা সূত্রে জানা গেছে ১৩ মে বিক্রি হবে ২৩ মে যাত্রার টিকিট। পরবর্তী দিনগুলোতে পর্যায়ক্রমে ২৪, ২৫, ২৬ ও ২৭ মে যাত্রার টিকিট বিক্রি করা হবে। অন্যদিকে ঈদ-পরবর্তী ফিরতি যাত্রার টিকিট ২১ মে থেকে বিক্রি শুরু হবে। ওই দিন বিক্রি হবে ৩১ মে যাত্রার টিকিট। পরবর্তী দিনগুলোতে যথাক্রমে ১, ২, ৩ ও ৪ জুনের টিকিট বিক্রি করা হবে। ঈদ অগ্রিম ও ফিরতি যাত্রায় একজন যাত্রী একবারে সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কিনতে পারবেন। তবে এসব টিকিট ফেরত দেওয়া যাবে না। যাত্রার দিন মোট আসনের ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট স্টেশন কাউন্টার থেকে বিক্রি করা হবে।
এবারও কোরবানির পশু পরিবহনের জন্য তিনটি ক্যাটেল স্পেশাল ট্রেন চালু থাকবে। দেওয়ানগঞ্জ বাজার ও ইসলামপুর বাজার থেকে এসব ট্রেন ঢাকার উদ্দেশে চলাচল করবে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম-চাঁদপুর, ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ, ভৈরববাজার-কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ এবং জয়দেবপুর-পার্বতীপুর রুটে মোট পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করা হবে। শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল ট্রেনগুলো কেবল ঈদের দিন চলবে।
চাদঁপুর ঈদ স্পেশাল-১, ২ ও তিস্তা ঈদ স্পেশাল-৩, ৪ ট্রেন আগামী ২৫ মে থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এবং ঈদের পর ২য় দিন (ঈদ-উল-আযহা যদি ২৮ মে অনুষ্ঠিত হয় সেক্ষেত্রে ঈদের পর ২য় দিন অর্থাৎ ৩০ মে) হতে পরবর্তী ৩ দিন অর্থাৎ ১ জুন পর্যন্ত পরিচালনা করা হবে। এছাড়া, পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল-৯, ১০ ঈদের পূর্বে ২৪ মে থেকে ২৬ মে পর্যন্ত ৩ দিন এবং ঈদের পরের দিন থেকে ৩ দিন পরিচালনা করা হবে।
ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধ, আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে ঢাকা ও বিমানবন্দর রেলস্টেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব, জিআরপি ও আরএনবি সদস্য মোতায়েন করা হবে। স্টেশনে টিকিটধারী যাত্রী ছাড়া অন্য কাউকে প্রবেশ করতে না দিতে বিশেষ বেষ্টনী নির্মাণ করা হবে।
ঈদের আগে ২৩ মে থেকে সব আন্তঃনগর ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সময়ে জয়দেবপুর ও বিমানবন্দর স্টেশন থেকে ঢাকামুখী আন্তঃনগর ট্রেনে টিকিট বিক্রি বন্ধ থাকবে। কিছু ট্রেনের বিমানবন্দর স্টেশনে যাত্রাবিরতিও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে ট্রেনের ছাদে যাত্রী পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন রোধে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি স্টেশনে টিকিট যাচাই জোরদার করা হবে। রেললাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়মিত পেট্রোলিং, রিলিফ ট্রেন প্রস্তুত রাখা এবং দুর্ঘটনা মোকাবিলায় বিশেষ সেল গঠনের সিদ্ধান্তও হয়েছে।
টিকিট কালোবাজারি রোধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নজরদারির আওতায় আনা হবে বলে সভায় জানানো হয়। এ ছাড়া শুধুমাত্র রেলওয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইট ও কাউন্টার থেকে টিকিট কেনার জন্য যাত্রীদের সচেতন করতে প্রচারণা চালানো হবে।
রেলপথ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে ঢাকা, বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভিজিল্যান্স ও তদারকি টিম গঠন করা হবে। একই সঙ্গে যাত্রীসেবা নিশ্চিতে ‘১৩১’ কলসেন্টারকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হাআমা/
