নিজস্ব প্রতিবেদক :: ইহুদি বিশ্বব্যবস্থা ভাঙতে আরো সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আমিরে মজলিস মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক।
৮ মে শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি মিলনায়তনে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের শাখা প্রতিনিধি সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমিরে মজলিস মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা এবং একজন আদর্শ সংগঠকের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
মাওলানা মামুনুল হক তার বক্তব্যে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে বলেন, “বর্তমান বিশ্ব মূলত একটি নির্দিষ্ট বলয়ের আধিপত্যে বন্দি, যা মূলত ইহুদি বিশ্বব্যবস্থা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এই জগদ্দল পাথর ভাঙতে হলে কেবল আবেগ দিয়ে নয়, বরং এই ব্যবস্থার খুঁটিনাটি ও এর অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমাদের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “চলমান এই বিশ্বব্যবস্থা মূলত চারটি প্রধান স্তম্ভ বা ফাংশনের ওপর দাঁড়িয়ে আছে: বিশ্ব শিক্ষা ব্যবস্থা, মিডিয়া, বিশ্ব অর্থ ব্যবস্থা এবং বিশ্ব সামরিক ব্যবস্থা।এই চারটি বিভাগই মূলত জাতিসংঘের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে। এই ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে আমাদের তরুণ সমাজকে প্রতিটি ক্ষেত্রে যোগ্য ও দক্ষ হয়ে গড়ে উঠতে হবে।”

সংগঠন পরিচালনার কৌশল নিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোঃ আব্দুল আজিজ বলেন, “আদর্শ সংগঠক হতে হলে কেবল আবেগ নয়; হিকমাহ, সঠিক কৌশল ও উত্তম আচরণের মাধ্যমে মানুষের হৃদয় জয় করতে হবে। দ্বীন বিজয়ের নববী মিশনকে প্রজ্ঞা, ধৈর্য ও সুন্দর উপস্থাপনার মাধ্যমে জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। কোনো ভুল পদ্ধতি যেন মানুষকে দ্বীনের পথ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “একজন প্রকৃত সংগঠক সমাজের সমস্যা দেখে নীরব থাকেন না, বরং সমাধানের উদ্যোগ নেন। ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি ও উম্মাহর কল্যাণই হওয়া উচিত আমাদের মূল লক্ষ্য।”
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য, ও মাদারীপুর ১ আসনের সম্মানিত সংসদ সদস্য সাঈদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা তার বক্তব্যে বলেন, “বিগত ১৬ বছরের স্বৈরাচারের পতন এ দেশের ছাত্র সমাজের হাত ধরেই হয়েছে। নতুন বাংলাদেশ গড়ার পেছনে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের ভূমিকা অনন্য। এ দেশের ছাত্র সমাজ জাগ্রত থাকলে কোনো স্বৈরাচার আর কখনোই মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না।”
অন্যান্য নেতৃবৃন্দের বক্তব্য দেন, সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা রাকিবুল ইসলাম সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সাংগঠনিক মজবুতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়াও উক্ত শাখা প্রতিনিধি সভায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
