মোল্লা খালিদ সাইফুল্লাহ>> আফগানিস্তানের স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড কোয়ালিটি অথরিটি একটি ভারতীয় আন্তর্জাতিক কোম্পানি (TCRC)-এর সাথে ৪৬ মিলিয়ন ডলারের বিশাল চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ল্যাবরেটরি কমপ্লেক্স নির্মাণ, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সরঞ্জাম স্থাপন এবং ৯টি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে পরীক্ষাগার সুবিধা চালু করা হবে।
যারা প্রতিনিয়ত বলে, ‘মোল্লারা শুধু ধ্বংস করতে জানে’, ‘মোল্লারা কিছুই পারে না’ তাদের জন্য এ ধরনের উন্নয়নমূলক উদ্যোগই বাস্তব জবাব।
রাষ্ট্র পরিচালনা শুধু স্লোগান দিয়ে হয় না; লাগে পরিকল্পনা, দক্ষতা, অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বাস্তব জ্ঞান। আফগানিস্তান ধীরে ধীরে সেই দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে। বাণিজ্য, মান নিয়ন্ত্রণ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তারা নিজেদের নতুনভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।
এখানে রাষ্ট্রনীতির একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বোঝার আছে। ভারত একটি কট্টর হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্র, আর আফগানিস্তান একটি খাঁটি মুসলিম রাষ্ট্র। তবুও উভয় দেশ নিজেদের স্বার্থে একসাথে কাজ করছে। এতে কারও আকিদা নষ্ট হয়ে যায়নি, কেউ ফতোয়াও দেয়নি।
কিন্তু আমাদের দেশে পরিস্থিতি এমন যে, আপনি ভিন্ন মতাদর্শের কারও সাথে সাক্ষাৎ করলেও “আকিদা গেল” বলে ট্যাগ লাগিয়ে দেওয়া হয়। শুধু তথাকথিত চুশীল শাহবাগীরাই নয়, ধর্মীয় অঙ্গনের অনেক লোকজনও একই মানসিকতায় আক্রান্ত। এমনকি আমাদের দেশে টুপির রং, সাইজ আর উচ্চতার মধ্যেও নাকি আকিদা লুকিয়ে থাকে!
আসল সমস্যা মতভেদ না, সমস্যা হলো অসহিষ্ণুতা। আমরা রাজনৈতিক, সাংগঠনিক কিংবা কৌশলগত পার্থক্যকেও আকিদাগত যুদ্ধে পরিণত করে ফেলি। অথচ বাস্তব পৃথিবী চলে প্রজ্ঞা, কূটনীতি ও সক্ষমতার সমন্বয়ে।
লেখক: সংগঠক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
হাআমা/
