মো. রেজওয়ান, (রাবি প্রতিনিধি)
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও ভুয়া তথ্যের বিস্তার রোধে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) নেতারা। তাঁরা বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া তথ্য প্রচার সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে এবং অনেক ক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্ম দিচ্ছে।
রোববার (১৭ মে) বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত ‘ফ্যাক্ট-চেকিং’ বিষয়ক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
কর্মশালায় রাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, যাচাই ছাড়া তথ্য প্রচার বড় ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি করে। অনেকেই সত্যতা যাচাই না করেই তথ্য ছড়িয়ে দেন, যা পরবর্তীতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণ হয়। তাই তথ্য প্রচারের আগে এর সত্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, ইসলামের শিক্ষাতেও যাচাই ছাড়া কোনো সংবাদ প্রচার করতে নিষেধ করা হয়েছে। ভুল তথ্যের ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত পরবর্তীতে অনুতাপের কারণ হতে পারে। বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতে সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।
রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, ভুয়া তথ্য ও অনলাইন প্রতারণার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। তরুণদের পাশাপাশি অনেক বয়স্ক মানুষও যাচাই ছাড়া বিভিন্ন পোস্ট, লিংক বা অফার শেয়ার করছেন, যা প্রতারণার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
তিনি বলেন, লোভনীয় অফার, ভুয়া লিংক কিংবা অনলাইন কেনাকাটার ফাঁদে পড়ে অনেকেই অর্থ হারাচ্ছেন। ফেসবুক, টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহারও প্রতারণাকে আরও জটিল করে তুলছে।
তিনি আরও বলেন, তথ্য যাচাই ছাড়া কিছুই বিশ্বাস বা শেয়ার করা উচিত নয়। বিশেষ করে অতিরিক্ত লোভনীয় অফারের ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ব্যক্তিগত ও সামাজিক পর্যায়ে সচেতনতা বাড়লে এসব প্রতারণা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
রাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সালমান সাব্বির বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও ভুয়া তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফেক আইডি ও ভুয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এ কারণে ফ্যাক্ট-চেকিং বিষয়ে সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, এই কর্মশালার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তথ্য যাচাইয়ের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পেয়েছেন। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরাই ফ্যাক্ট-চেকার হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘মব কালচার’-এর কারণে অনেক মানুষ অপমানিত ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সম্প্রতি একটি ভুয়া খবরকে কেন্দ্র করে যেভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা সবার জন্য সতর্কবার্তা।
কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. মাঈন উদ্দিন খান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও বিকৃত তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। তাই কোনো তথ্য যাচাই ছাড়া গ্রহণ বা প্রচার করা উচিত নয়। এ ধরনের কর্মশালা শিক্ষার্থীদের সঠিক তথ্য যাচাই ও গুজব প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এনআর/
