পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে বিশালাকৃতির একটি মৃত বেলিন তিমি ভেসে এসেছে।
বুধবার (৩ জুন) সকাল ১১টার দিকে সৈকতের ঝাউবন এলাকা সংলগ্ন গভীর সমুদ্র থেকে তিমিটিকে টেনে তীরে নিয়ে আসা হয়। দৈত্যাকৃতির এই মৃত প্রাণীটিকে একনজর দেখতে স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবেশকর্মী ও কুয়াকাটায় আগত পর্যটকরা সৈকতে ভিড় জমাচ্ছেন।
উপকূলের জীববৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করা কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির সদস্য ও উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের (উপরা) আহ্বায়ক কেএম বাচ্চু বলেন, সকালে সৈকতের তীরে এক স্পিডবোট চালক মৃত তিমিটি ভাসতে দেখে আমাদের খবর দেন। পরে আমরা স্পিডবোট নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিমিটিকে টেনে তীরে নিয়ে আসি এবং পরবর্তীতে বন বিভাগকে বিষয়টি অবহিত করি। তিনি আরও জানান, মৃত তিমিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০ ফুট এবং প্রস্থ ৫ ফুট। বাহ্যিক অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, সপ্তাহখানেক আগে গভীর সমুদ্রে এটির মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি।
উপকূলীয় ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানান, এর আগে ২০১৮ ও ২০২২ সালেও কুয়াকাটা সৈকতে এমন মৃত তিমি ভেসে এসেছিল। সাগরে এভাবে বারবার তিমি, ডলফিন ও কচ্ছপের মৃত্যুর রহস্য উন্মোচন করা প্রয়োজন। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স ও মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক রাজীব সরকার বলেন, কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে ভেসে আসা তিমিটির বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি বেলিন তিমি প্রজাতির সদস্য; যারা সমুদ্রের ক্ষুদ্র প্ল্যাঙ্কটন ও অন্যান্য অণুজীব ছেঁকে খাদ্য গ্রহণ করে। সমুদ্রের পরিবেশগত পরিবর্তন, অসুস্থতা, খাদ্যের অভাব, জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষ অথবা সমুদ্রস্রোতের কারণে বড় সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী মাঝে মাঝে উপকূলে ভেসে আসতে পারে। তবে তিমিটির মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা প্রয়োজন।
এই অধ্যাপক আরও জানান, এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করতে পারে। তাই তিমিটির নমুনা সংগ্রহ ও প্রজাতি শনাক্তকরণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। মৃত তিমিটির যথাযথ সংরক্ষণ, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য এর কঙ্কাল সংরক্ষণ করা যেতে পারে। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউছার হামিদ জানান, তিনি খবরটি পেয়েছেন এবং মৃত তিমিটি কিনারে ভেসে আসার পর পরিবেশের ক্ষতি এড়াতে এবং পরবর্তী বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ও সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন।
টিএইচএ/
