পলাশবাড়ীতে কোটি টাকার শিবমূর্তি: নেপথ্যে কি প্রতারক হরিদাস?

by hsnalmahmud@gmail.com

চিফ রিপোর্টার:: গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কোমরপুরে এশিয়া মহাদেশের অন্যতম বৃহত্তম দাবি করে কোটি টাকা ব্যয়ে রাধা গোবিন্দের মন্দির এবং ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বিশাল শিবমূর্তি নির্মাণকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই বিপুল অংকের অর্থায়নের নেপথ্যে রয়েছেন আলোচিত প্রতারক শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস (ধর্মান্তরিত নাম তাওহীদ ইসলাম)। নিজেকে হিন্দু ধর্মের ত্রাণকর্তা হিসেবে জাহির করা এই ব্যক্তির অতীত ইতিহাস এবং বিপুল অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ স্থানীয় সাধারণ সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ভারতে গমন ও বিচিত্র অতীত

বিজ্ঞাপন
banner

অনুসন্ধানে জানা যায়, হরিদাস ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় অবৈধ উপায়ে ভারতে তার এক আত্মীয়ের বাসায় চলে যান। সেখানে স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধানের কাছ থেকে এতিম সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন এবং ইলেকট্রনিক্স বিষয়ে দুই বছরের বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন। ২০১০ সালে দেশে ফিরে রাজধানীর উত্তরায় পুরাতন এসি মেকানিকের কাজ শুরু করেন তিনি। ২০১৮ সালে এক সবজি বিক্রেতার সাথে সাবলেট বাসায় থাকার সময় বিয়ে করেন এবং ২০১৯ সালে ধর্মান্তরিত হয়ে ‘তাওহীদ ইসলাম’ নাম ধারণ করেন।

পিএমও প্রটোকল অফিসার সেজে কোটি টাকার প্রতারণা

র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, হরিদাস তার শ্বশুরের পরিচয়ে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া এলাকায় কিছু জমি কেনেন এবং নিজেকে অত্যন্ত বিত্তশালী হিসেবে প্রকাশ করতে শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের ‘প্রটোকল অফিসার’ হিসেবে ভুয়া পরিচয় দিতে থাকেন। দামি গাড়ি ও পোশাক ব্যবহার করে স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও বিত্তশালীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর নিকটাত্মীয়ের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রজেক্ট ও টেন্ডারে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে, চাকরি ও বদলির তদবিরের নামে তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কর্মরত ইমরান মেহেদী হাসান নামের এক সহযোগীসহ একটি চক্র হরিদাসের জন্য মোটা অংকের বিনিময়ে ক্লায়েন্ট সংগ্রহ করতো। এই প্রতারণার অর্থ দিয়ে ২০২০ সালে তিনি ফুলবাড়ীয়ায় প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ‘প্যারিস সুইমিংপুল এন্টারটেইনমেন্ট পার্ক’ নামে একটি রিসোর্ট তৈরি করেন। সেখানে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে নিজের এডিট করা ছবি দেখিয়ে বিত্তশালীদের প্রলোভন ফেলতেন।

জামিনে ফিরে পলাশবাড়ীতে কোটি টাকার প্রজেক্ট: জনমনে প্রশ্ন

র‍্যাবের হাতে গ্রেফতারের পর জামিনে মুক্তি পেয়ে হরিদাস ওরফে তাওহীদ ইসলাম পুনরায় নিজের রূপ বদল করেন। বর্তমানে তিনি গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে মন্দির এবং ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে শিবমূর্তি ও অন্যান্য বৃহৎ আকৃতির মূর্তি নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন।

বাংলাদেশের সাধারণ দেশপ্রেমিক সনাতনী হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি সনজীত কুমার দে এই কর্মকাণ্ডে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন আন্তর্জাতিক মানের প্রমাণিত প্রতারকের কাছে এত বিপুল পরিমাণ টাকা কোথা থেকে আসছে? তিনি কি কোনো বিদেশি বা ভারতীয় এজেন্ট হিসেবে বাংলাদেশ বিরোধী কোনো বড় ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন? নাকি মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় ধর্মীয় উস্কানি ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির উদ্দেশ্যে এসব করা হচ্ছে?

স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বলছেন, তারা চান না কোনো ভারতীয় নাগরিক বা ছদ্মবেশী প্রতারক সাধারণ হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের জীবন ও ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ খেলায় মেতে উঠুক। হরিদাসের অর্থের উৎস খুঁজে বের করতে তাকে অবিলম্বে গ্রেফতার ও আইনের আওতায় এনে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।

হাআমা/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222