আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফিলিস্তিনের দক্ষিণ গাজার খান ইউনুস শহরে বিয়ের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরায়েলি বিমান হামলা ‘মুহান্নাদ ফারওয়ানা’ নামের এক ফিলিস্তিনি যুবক নিহত হয়েছেন।
আজ শনিবার (৬ জুন) ভোররাতে খান ইউনুসে তার থাকার তাঁবুটি লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। বিয়ের আনন্দঘন পরিবেশ মুহূর্তের মধ্যে এক মর্মান্তিক শোকের ছায়ায় রূপ নিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, যেখানে নতুন দম্পতিকে বরণ করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল, সেখানে এখন শুধুই ধ্বংসস্তূপ। যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বিয়ের বরযাত্রী ও অনুষ্ঠানের ফুল ও অন্যান্য সামগ্রী। ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে বরের বিয়ের পোশাকটি উদ্ধার করা হয়, যা দেখে উপস্থিত স্বজনদের মধ্যে কান্নার রোল পড়ে।
নিহত যুবকের আত্মীয় মোহাম্মদ মাহমুদ আল কুদরা জানান, মুহান্নাদ নিজের বিয়ের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রাত ৩টার দিকে তাঁবুর ভেতরে ঘুমাতে গিয়েছিলেন। এর কিছুক্ষণ পরই সেখানে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। আগের দিন সন্ধ্যায়ও পুরো পরিবার বিয়ের উৎসবে মেতে ছিল, যা একটি হামলায় চরম ট্র্যাজেডিতে রূপ নিলো। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তাঁবুটি পুরোপুরি যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে এবং অপেক্ষাকৃত নিরাপদ এলাকায় অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও এই হামলার শিকার হতে হয়েছে।
নিহত মুহান্নাদের ভাই আহমেদ ওসমান ফারওয়ানা ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, যে ফুলগুলো আমার ভাইকে বরণ করার জন্য আনা হয়েছিল, আজ তা দিয়ে তাকে শেষ বিদায় জানাতে হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই পুরো তাঁবুটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
আল জাজিরার জানিয়েছে, তথাকথিত নিরাপদ অঞ্চল হিসেবে ঘোষিত এই এলাকায় এখনো গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর নিহতের পরিবার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর চলমান এই হামলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
টিএইচএ/
