বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ভারতীয়দের পুশইনের অপচেষ্টা রুখতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ বলেছেন, বিদ্যুৎখাতে নীতি দুর্বলতা ও বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের ক্যাপাসিটি চার্জের নামে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ লুটপাটের দায় এখন সাধারণ জনগণকে বহন করতে হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান এই ব্যয়ের দায়ভার জনগণের ওপর চাপাতে এরই মধ্যে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি অবিলম্বে ফ্যাসিস্ট আমলের বিদ্যুৎ সংক্রান্ত সব চুক্তি বাতিল এবং সুবিধাভোগী কোম্পানিগুলোকে শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানান।
আজ শনিবার (৬ জুন) বিকেলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত এক ঈদ পুনর্মিলনী ও যৌথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর আইএবি মিলনায়তনে এই সভার আয়োজন করা হয়। সংগঠনের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ও দলের সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আব্দুল কাউয়ুমের সভাপতিত্বে সভাটি সঞ্চালনা করেন নগর জয়েন্ট সেক্রেটারি আলহাজ্ব আবদুর রাজ্জাক।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মাওলানা ইউনুস আহমদ বলেন, বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয়দের কার্যক্রম অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা বহু মানুষকে সীমান্তে জড়ো করে পুশইন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষ এই পুশইন রোধ করার চেষ্টা করলেও, এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। এর জন্য দরকার সরকারের শক্তিশালী নীতিগত পদক্ষেপ, যা ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর অপচেষ্টা থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করবে। তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের বিজেপি সরকার এনআরসি ও সিএএ-র মতো বিতর্কিত প্রকল্প হাতে নিয়ে সে দেশের বহু মানুষের নাগরিকত্ব হরণ করেছে এবং তাদের বাংলাদেশি বলে পুশইন করার চেষ্টা করছে। বিগত আওয়ামী সরকার বিষয়টিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে এড়িয়ে যাওয়ার কারণেই আজকে দেশকে এই কাফফারা দিতে হচ্ছে। বর্তমান সরকারও বিষয়টিকে একটি বিচ্ছিন্ন সীমান্ত সমস্যা হিসেবে দেখছে, যা ভবিষ্যতে আমাদের রোহিঙ্গা সংকটের মতো আরেকটি ভয়াবহ সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তিনি সরকারকে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এই ইস্যুতে দ্রুত জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করার আহ্বান জানান।
যৌথ সভায় বিদ্যুৎখাতের দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরে নেতৃবৃন্দ বলেন, পিডিবির তথ্যমতে, ২০০৯-১০ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত ১৫ বছরে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩৭৭ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এটি কোনো ব্যবসা ছিল না, এটি ছিল সরাসরি রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাট। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নগর সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন, আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন, আলহাজ্ব এম এইচ মোস্তফা, সাংগঠনিক সম্পাদক কে এম শরীয়াতুল্লাহ, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা নজরুল ইসলাম, প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক প্রভাষক শফিকুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক মাওলানা নজরুল ইসলাম খোকন, দপ্তর সম্পাদক ফজলুল হক মৃধা, গোলামুর রহমান আজম, মাওলানা কামাল হোসেন, মাওলানা ইসমাইল হোসেন, মুফতি আবদুল আহাদ, মাওলানা আবদুর রহমান, আল-আমীন আল ইহসান, শেখ আবু তাহের এবং বিভিন্ন থানা শাখার নেতৃবৃন্দ।
