জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে আবারও ভাঙনের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পর এবার এই জোট ছাড়ার আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। মূলত নির্বাচনী আসন সমঝোতা নিয়ে অসন্তুষ্টির কারণে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে জোটে থাকা না থাকার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে চলতি মাসের ১০ তারিখে।
সম্প্রতি খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ইউসুফ সাদেক হক্কানী এক সাক্ষাৎকারে জোটের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের সমঝোতা ছিল নির্বাচনী সমঝোতা। এখন নির্বাচন তো শেষ। তাছাড়া নির্বাচনের ব্যাপারটা নিয়েও আমাদের সাথে জোট একটু অন্যরকম আচরণ করেছে। জোটের কোনো প্রোগ্রামে আপাতত আমরা যাচ্ছি না। চলতি মাসের ১০ তারিখে আমাদের মজলিসে আমেলার মিটিং আছে। সেই মিটিংয়ে জোটে থাকা না থাকার বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।
২০২৪ সালের জুলাই আগস্টের ছাত্র জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পুরোপুরি বদলে যায়। দীর্ঘদিন পর এক টেবিলে বসেন ইসলামপন্থী দলগুলোর শীর্ষ নেতারা। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৃহত্তর ইসলামিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও অনুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। যার ধারাবাহিকতায় এই ১১ দলীয় জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটে।
কিন্তু জোট গঠনের পর থেকেই আসন ভাগাভাগি নিয়ে দলগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ টানাপোড়ন শুরু হয়। বিশেষ করে জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে আসন বরাদ্দের ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের। দীর্ঘ দিন ধরে চলা এই দর কষাকষিতে ব্যর্থ হওয়ায় চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি জোট থেকে নিজেদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নেয় চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন। সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই এবার খেলাফত আন্দোলনের এই নতুন অবস্থান জোটের ভবিষ্যৎকে আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
টিএইচএ/
