অর্থনৈতিক প্রতিবেদক, ঢাকা: বিগত সরকারের ভুল নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম ও আমদানিনির্ভরতার কারণে দেশের জ্বালানি খাত গভীর সংকটে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, অতীতে কেবল এলএনজি ও তেল আমদানিতে জোর দেওয়া হলেও নিজস্ব স্থলভাগ ও সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান কিংবা তেল শোধনাগারের সক্ষমতা বাড়াতে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লেও সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে সরকার বিপুল ভর্তুকি দিয়ে দাম ও সরবরাহ স্বাভাবিক রেখেছে।
এই সংকট থেকে স্থায়ী উত্তরণে আগামী ৩ বছরের জন্য একটি মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। এর অধীনে বাপেক্সের মাধ্যমে ৬৯টি নতুন কূপ খনন, ৩১টি কূপের মেরামত (ওয়ার্কওভার) এবং ব্যাপক ভিত্তিক সাইসমিক জরিপ চালানো হবে। জ্বালানি অনুসন্ধানে নতুন রিগ কেনার পাশাপাশি সমুদ্রাঞ্চলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য ‘বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড’ ঘোষণা এবং আকর্ষণীয় মডেল পিএসসি সংশোধন করা হচ্ছে।
জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে একক দেশের ওপর নির্ভরতা কমাতে উৎস বহুমুখীকরণ করা হবে। এর অংশ হিসেবে মহেশখালীর মাতারবাড়িতে ল্যান্ড-বেজড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জমি অধিগ্রহণ ও পরামর্শক নিয়োগ চূড়ান্ত করা হচ্ছে। এ ছাড়া জ্বালানি তেল পরিবহণে নির্মিত ৬০১.৫০ কিলোমিটার পাইপলাইনের সর্বোচ্চ ব্যবহার, সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং চালু এবং চট্টগ্রাম বা উপকূলীয় শিল্পাঞ্চলে ধাপে ধাপে ৫০ লাখ টন পরিশোধন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি নতুন ক্রুড অয়েল রিফাইনারি নির্মাণ করা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
টিএইচএ/
