নিজস্ব প্রতিবেদক:: চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড এলাকায় পাঁচ বছর বয়সী শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে হত্যা করে মরদেহ ছয় টুকরো করার চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করা হবে বুধবার (১৭ জুন)। একই দিনে নগরের বাকলিয়ায় চার বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণের মামলার রায়ও ঘোষণা করবেন আদালত।
গত শনিবার চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাসের আদালতে আয়াত হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়। পরে আদালত রায় ঘোষণার জন্য বুধবার দিন ধার্য করেন।
আদালতের পিপি জালাল উদ্দিন বলেন, মামলায় ৩৩ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ১৭ জুন রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেছেন।
এদিকে চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে চার বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণের মামলারও রায় ঘোষণা করা হবে বুধবার সকালে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) যুক্তিতর্ক শেষে ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন।
ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ জানান, বাকলিয়ায় চার বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় গত ২১ মে দায়ের করা মামলার যুক্তিতর্ক মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। ঘটনা সংঘটিত হওয়ার ২৭ দিনের মধ্যে এবং অভিযোগপত্র দাখিলের ১৩ দিনের মাথায় রায় ঘোষণা করা হচ্ছে। মামলায় ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে।
মামলার বাদী ও নিহত আয়াতের বাবা সোহেল রানা বলেন, ‘আমার মেয়েকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি চাইলেও একমাত্র সন্তানকে আর ফিরে পাব না। যে বিচার একবছরে হওয়ার কথা তা হতে দীর্ঘ ৪ বছর লেগেছে। আমি হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি, ফাঁসি চাই।’
জানা যায়, ২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর নগরের ইপিজেড থানার নয়ারহাট ওয়াছমুন্সী বাড়ি এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আলিনা ইসলাম আয়াত নিখোঁজ হয়। পরে তদন্তে উঠে আসে, প্রতিবেশী আবীর আলী তাকে হত্যা করে মরদেহ ছয় টুকরো করে সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছেন।
ঘটনার দিন বিকেলে মসজিদে আরবি পড়তে যাওয়ার পথে আয়াত নিখোঁজ হয়। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আবীরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন।
তদন্তে পিবিআই জানায়, মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে আয়াতকে অপহরণ করেছিলেন আবীর। তবে তাকে কোথাও লুকিয়ে রাখার ব্যবস্থা করতে না পেরে হত্যা করেন। এরপর আয়াতের বাবার কাছে টাকা দাবি করার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। এজন্য একটি মোবাইল ফোনও কিনেছিলেন। কিন্তু ব্যবহারের জন্য রাখা সিম সচল না থাকায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি।
তদন্ত চলাকালে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটি ও আয়াতের জুতা উদ্ধার করা হয়। ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর আউটার রিং রোডের আকমল আলী ঘাটসংলগ্ন সুইচ গেট এলাকার একটি গর্ত থেকে আয়াতের দুই পা এবং পরদিন খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পিবিআই।
ঘটনার পর আয়াতের বাবা ইপিজেড থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যাকাণ্ডের পর আবীরের বাসায় পাওয়া রক্তের নমুনার ডিএনএ পরীক্ষায় তা আয়াতের ডিএনএর সঙ্গে মিল পাওয়া যায়।
তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ৯ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক মনোজ কুমার দে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রে আবীর আলীকে একমাত্র আসামি করা হয় এবং তার বাবা-মা ও বোনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।
এ ছাড়া হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের ঘটনা জেনেও গোপন রাখার অভিযোগে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের বিরুদ্ধে পৃথক দোষীপত্র দেওয়া হয়। ওই কিশোর অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় শিশু আদালতে তার বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে, গত ২১ মে বিকেলে নগরের বাকলিয়া থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নুর হোসেন চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার বালুরমাঠসংলগ্ন একটি গুদামকক্ষে চার বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা মেহেদী হাসান বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার একমাত্র আসামি মনির হোসেন (৩০) বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তদন্ত শেষে গত ৪ জুন বাকলিয়া থানার পরিদর্শক তানভীর আহমেদ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ৯ জুন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। যুক্তিতর্ক শেষে আদালত বুধবার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন।
হাআমা/
