নিজস্ব প্রতিবেদক:: মানবজাতির কাছে ইসলামের সুমহান আদর্শ পৌঁছে দিতে এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর দাওয়াতকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে সাহাবায়ে কেরাম (রা.) ইতিহাসে অতুলনীয় ভূমিকা পালন করেছেন। নবী ও সাহাবীদের সমালোচক আর যাই হোক কখনো ইসলামের বন্ধু হতে পারে না।
মঙ্গলবার(১৬ জুন) খুলনায় ঈমান-আকিদা সংরক্ষণ কমিটি কর্তৃক আয়োজিত ‘ইসলাম প্রতিষ্ঠায় সাহাবায়ে কেরাম রা.-এর অবদান’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জাতীয় ইমাম পরিষদ বাংলাদেশের সভাপতি ও মারকাযুল উলূম খুলনার মুহতামিম মুফতী আবদুল্লাহ ইয়াহইয়া।
মুফতী আবদুল্লাহ ইয়াহইয়া আরও বলেন, সাহাবায়ে কেরাম (রা.) ছিলেন কুরআন ও সুন্নাহর বাস্তব অনুসারী। ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁরা ন্যায়, ইনসাফ ও তাকওয়ার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বর্তমান মুসলিম সমাজের সংকট উত্তরণে তাঁদের আদর্শ অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই।
সভায় বক্তারা বলেন, সাহাবায়ে কেরাম (রা.) ইসলামের প্রথম বাহক ও দ্বীনের বিশ্বস্ত ধারক ছিলেন। তাঁদের প্রতি বিদ্বেষ, অবমাননা বা অযাচিত সমালোচনা মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও ইসলামের মৌলিক শিক্ষার পরিপন্থী। তাই একজন মুসলমানের উচিত তাঁদের সম্পর্কে সম্মানজনক ভাষা ব্যবহার করা এবং মতভেদ বা ঐতিহাসিক ঘটনাবলি আলোচনা করলেও শালীনতা ও ন্যায়পরায়ণতার সীমা বজায় রাখা।
আলোচনায় উপস্থিত আলেমগণ যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর জীবনচরিত অধ্যয়নের মাধ্যমে দ্বীনের প্রতি ভালোবাসা, চরিত্র গঠন এবং উম্মাহর ঐক্য সুদৃঢ় করতে হবে। ইসলামের সঠিক আকীদা ও মূল্যবোধ রক্ষায় কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক জীবন গড়ে তোলার উপরও তাঁরা গুরুত্বারোপ করেন।
উক্ত আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন মাওলানা নাসিরুদ্দীন কাসেমী, মুফতী আব্দুল কাইয়ুম জমাদ্দার, মুফতী শরীফ মাশহুদুর রহমান, মুফতী মানজুর আহমাদ, মুফতী জাকির হুসাইন, মুফতী রবিউল ইসলাম রাফে, মাওলানা এখলাছুর রহমান, মুফতী ইবরাহীম খলীল, মুফতী আবদুল্লাহ মুখতার প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে খুলনার বিভিন্ন মাদরাসার মুহতামিম, মুফতী, আলেম-ওলামা ও বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, সমাজে ইসলামের সঠিক শিক্ষা ও সাহাবায়ে কেরামের আদর্শ প্রচারে এই ধরনের আলোচনা সভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
হাআমা/
