গভীর সমুদ্রে নতুন গ্যাসক্ষেত্রের খোঁজ পেল মায়ানমার

by naymur bd1999

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: মায়ানমার সরকার চারটি নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে আয়েয়ারওয়াদি এবং তানিনথারি রিজার্ভের ব্লকগুলোও অন্তর্ভুক্ত।

সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় (এমওআই) অনুসারে, নতুন ক্ষেত্রগুলোতে সম্মিলিতভাবে আনুমানিক ১০৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) প্রাকৃতিক গ্যাস রয়েছে।
যদিও এমওআই নতুন ক্ষেত্রগুলোর নাম উল্লেখ করেনি, তবে তারা জানিয়েছে, সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্রটি তানিনথারির গভীর সমুদ্র এলাকায় অবস্থিত। প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, সেখানে প্রায় ৯৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ থাকার ৯০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে। তারা আরো জানায়, নতুন আয়েয়ারওয়াদি গ্যাসক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
banner

গত ডিসেম্বরে বিবিসি নিউজ বার্মিজ জানায়, তানিনথারি গ্যাসক্ষেত্রের এম১৫ ব্লকে আনুমানিক ৯৪ দশমিক ৬ টিসিএফ গ্যাস আবিষ্কৃত হয়েছে। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম মজুদ হতে পারে। গত সোমবার সরকারের ঘোষণায় সম্ভবত এম-১৫ ব্লকও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আন্দামান সাগরে তানিনথারি অঞ্চলের দক্ষিণ উপকূলের কাছে কাদান দ্বীপের পাশের এই ব্লকের আয়তন ১৩ হাজার বর্গকিলোমিটারের বেশি।

প্রেসিডেন্ট থেইন সেইনের শাসনামলে ২০১৫ সালের ৩০ মার্চ সিঙ্গাপুরভিত্তিক কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান সিএফজি (কানাডিয়ান ফোরসাইট গ্রুপ) এ ব্লকের অনুসন্ধান ও উন্নয়নের নিলামে জয়ী হয়। পরে তারা রাষ্ট্রায়ত্ত মায়ানমা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস এন্টারপ্রাইজের (এমওজিই) সঙ্গে উৎপাদন-বণ্টন চুক্তি (পিএসসি) স্বাক্ষর করে।

বিবিসি বার্মিজের প্রতিবেদনে সিএফজির ২০১৭ সালের একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, এই প্রকল্প থেকে মায়ানমারের মোট বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশের সমান রাজস্ব আসতে পারে। ওই প্রতিবেদনে সিএফজি তখনকার বাজারদর অনুযায়ী ব্লকটির গ্যাসের মজুদের মূল্য প্রায় ২৮০ বিলিয়ন ডলার বলে অনুমান করেছিল। সিএফজির নেতৃত্বে রয়েছেন চীনা বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান নাগরিক সংনিং শেন।

নতুন গ্যাস প্রকল্পটি সম্পর্কে তথ্যের জন্য ইরাবতী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং আয়েয়ারওয়াদি ও তানিনথারি অঞ্চলের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল, কিন্তু কোনো উত্তর পায়নি।
গত বছর মায়ানমার অয়েল অ্যান্ড গ্যাস এন্টারপ্রাইজ (এমওজিই) এবং থাইল্যান্ডের গালফ পেট্রোলিয়াম মায়ানমার (জিপিএম) একটি উৎপাদন-বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর করে। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর এটি ছিল মায়ানমারের প্রথম নতুন অফশোর প্রাকৃতিক গ্যাস প্রকল্পের চুক্তি।

মত্তমা উপসাগরে অবস্থিত মিন ইয়ে থু প্রকল্প (ব্লক এম-১০) নিয়ে এই চুক্তি ২০২৫ সালের ৩০ মে নেপিডোতে স্বাক্ষরিত হয়। প্রকল্পটি চালু হলে এটি মায়ানমারের সপ্তম বড় গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে যুক্ত হবে। বর্তমানে দেশের প্রধান গ্যাস প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ইয়াদানা, ইয়েতাগুন, জাওতিকা, শ্বে এবং আরো দুটি ছোট গ্যাসক্ষেত্র।

এনআর/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222