আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে ইবোলা প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মী ও ত্রাণ সংস্থার কর্মকর্তারা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জরুরি আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণা করার এক মাস পরও রোগী শনাক্ত, চিকিৎসা ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পর্যাপ্তভাবে এগোচ্ছে না।
বুধবার (১৭ জুন) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
কর্মকর্তাদের মতে, আক্রান্তদের শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় জনবল, অ্যাম্বুলেন্স এবং চিকিৎসা অবকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। আইসোলেশন ওয়ার্ড নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রীও পর্যাপ্ত নয়।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, ইটুরি প্রদেশে নতুন সন্দেহভাজন কেস সংক্রান্ত ২৪১টি সতর্কবার্তার প্রায় এক-তৃতীয়াংশই সময়মতো অনুসন্ধান করা সম্ভব হয়নি। নিরাপত্তাহীনতা ও দুর্গম এলাকা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বলছে, সেফ বুরিয়াল ও জীবাণুমুক্তকরণ কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় জনবলের মাত্র ১৫ শতাংশ এবং যানবাহনের মাত্র ৭ শতাংশ রয়েছে।
অক্সফাম জানিয়েছে, বুনিয়ার একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জ্বর ও রক্তক্ষরণসহ উপসর্গ থাকা এক রোগীকে অ্যাম্বুলেন্স সংকটের কারণে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।
আফ্রিকা সিডিসির মহাপরিচালক জিন কাসেয়া বলেন, অনেক সংক্রমিত ব্যক্তি চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে পালিয়ে যাচ্ছে বা যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছে না, ফলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ছে।
কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা ১,২০০ জন কমিউনিটি কর্মী প্রশিক্ষণ দিয়েছে এবং ১,০০০ জনকে মাঠপর্যায়ে কাজে লাগিয়েছে। বর্তমানে কেস ট্রেসিংয়ের হার প্রায় ৬৩ শতাংশ।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু জনবল নয়; পিপিই, অ্যাম্বুলেন্স এবং নির্মাণসামগ্রীরও তীব্র ঘাটতি রয়েছে। নির্মাণ উপকরণের অভাবে আইসোলেশন ওয়ার্ড নির্মাণ ধীরগতিতে চলছে।
আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়া এবং তহবিল সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। আফ্রিকান ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, ৫১৮ মিলিয়ন ডলারের প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনার মাত্র এক-পঞ্চমাংশ অর্থ এখন পর্যন্ত পাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দ্রুত ও সমন্বিত ব্যবস্থা না নিলে এই প্রাদুর্ভাব অতীতের বড় ইবোলা সংকটকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
