ভারতের ছত্তিশগড়ে বিজেপি নেতাকে জ্যান্ত পুড়িয়ে ‘হত্যা’

by Masudul Kadir

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এক নেতাকে জ্যান্ত পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) দিনগত রাতে রাজ্যের কোরিয়া জেলার সোনহাট থানার নওগাইন গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত বিজেপি নেতার নাম ভারত সিং। তার সঙ্গে গাড়িতে থাকা আরও দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহতদের পরিবারের দাবি, বালুমহাল সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ তাদের হত্যা করেছে।

বিজ্ঞাপন
banner

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট এলাকার বালুমহালের ইজারা ভারত সিংয়ের পরিবারের হাতে ছিল। স্থানীয়দের দাবি, এরপর থেকেই সোনহাট, কৈলাশপুর, তেলিমুদা, বেলিয়া এবং ছিংগুরা এলাকায় বালু পরিবহন ও খনি-সংক্রান্ত ‘অবৈধ’ অর্থ আদায়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তীব্র বিরোধ শুরু হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েক মাস ধরে ভারত সিংয়ের গোষ্ঠী ও আরেক বিজেপি নেতা মনোজ ত্রিপাঠীর পরিবারের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব চলছিল।

ত্রিপাঠী পরিবারের মালিকানাধীন টিপার ট্রাকগুলো বৈকুণ্ঠপুরে বালু পরিবহনে ব্যবহৃত হতো। খনি থেকে উত্তোলিত বালুর অর্থ লেনদেন ও নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে দুই পক্ষের বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। খনি ব্যবসা-সংক্রান্ত বিরোধ ধীরে ধীরে প্রভাব বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও স্থানীয় আধিপত্যের লড়াইয়ে পরিণত হয়।

নিহত ভারত সিংয়ের পরিবারের দাবি, বালুমহাল পরিচালনা-সংক্রান্ত একটি বিরোধ মেটাতে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে পৌঁছে তিনি পরিকল্পিত ফাঁদের মুখে পড়েন।

পুলিশ এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করেছে। তারা হলেন অক্ষত ত্রিপাঠী, বিশাল ত্রিপাঠী, সত্যপ্রকাশ ত্রিপাঠী ও মান্নু ত্রিপাঠী। এছাড়া আরও কয়েকজনকে খোঁজা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মোট নয়জন নাম উল্লেখ করে হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঘটনার পর পুরো কোরিয়া জেলাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

তদন্তকারীদের মতে, মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতে বিরোধ চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। তাদের দাবি, ভারত সিং ও তার সহযোগীরা যে ফর্চুনার গাড়িতে যাচ্ছিলেন, সেটিকে পরিকল্পিতভাবে ঘিরে ফেলা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসইউভিটির সামনে ও পেছনে ট্রাক দাঁড় করিয়ে পালানোর সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর গাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ভারত সিং গাড়ির ভেতরেই জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা যান।

এই হামলায় আরও দুজন প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের একজন বীরেন্দ্র সিং, যিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। অন্যজন নাগেন্দ্র সিং, পেশায় একজন শিক্ষক ও ভারত সিংয়ের চাচাতো ভাই। এছাড়া ময়াঙ্ক সিং নামে আরেকজন গুরুতর আহত অবস্থায় বিলাসপুরের অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার মাথা ও মুখে গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে জানা গেছে।

কে ছিলেন ভারত সিং?
ভারত সিং একসময় কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে ভূপেশ বাঘেল সরকারের আমলে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন।

এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ভারত সিং প্রায়ই হুটার লাগানো ফর্চুনার এসইউভিতে চলাফেরা করতেন। স্থানীয়দের মতে, এটি ওই অঞ্চলের খনি নেটওয়ার্ককে ঘিরে থাকা ক্ষমতা ও প্রভাবের প্রতীক ছিল।

সিবিআই তদন্তের দাবি
নিহতের পরিবার ঘটনার সিবিআই তদন্ত দাবি করেছে। তাদের অভিযোগ, এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং অত্যন্ত পরিকল্পিত হামলা। তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোরতম পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন।

তবে পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনো তদন্তাধীন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুরেশা চৌবে জানান, প্রাথমিক তদন্তে ত্রিপাঠী ও ঠাকুর গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিনের বালুমহাল নিয়ে বিরোধের বিষয়টি উঠে এসেছে। এরই মধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তরা পলাতক এবং তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।

সোনহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিনোদ পাসওয়ানও দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, একপক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন লাল্লা সিং, যিনি একটি ক্রাশার পরিচালনা করতেন। অন্যপক্ষে ছিল ত্রিপাঠী পরিবার।

এই বিরোধকে কেন্দ্র করে আগেও একাধিক মামলা দায়ের হয়েছিল। বিনোদ পাসওয়ান জানান, কিছু সময়ের জন্য লাল্লা সিং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করেছিলেন। তবে সম্প্রতি সেই কার্যক্রম আবার শুরু হয়। ঘটনার কয়েকদিন আগে ময়াঙ্ক সিং ত্রিপাঠী পরিবারের সদস্যদের মারধর করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া
এদিকে, ঘটনার পর রাজনৈতিক অঙ্গনেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। স্থানীয় বিধায়ক ভাইয়ালাল রাজওয়াড়ে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, কোরিয়া জেলার ইতিহাসে এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। দুই পক্ষের বিরোধের বিষয়টি আগেই জানা ছিল, কিন্তু কীভাবে পরিস্থিতি এত ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছালো, তা তদন্ত শেষেই স্পষ্ট হবে।

সাবেক বিধায়ক গুলাব কামরোও ঘটনাটির নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন।

এদিকে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই বলেছেন, কোরিয়ার ঘটনাটি তার নজরে আনা হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে ও যারা দোষী প্রমাণিত হবে তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
সূত্র: এনডিটিভি

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222