লাইফস্টাইল ডেস্ক: গরম পড়লেই দেশের ফলের বাজারে রাজত্ব শুরু করে ফলের রাজা আম। রসালো ও সুস্বাদু এই ফলের রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ। আমে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন এ, সি, ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রাকৃতিক সুগার রয়েছে। তাই আম যেমন খেতে অতুলনীয়, তেমনি স্বাস্থ্যের পক্ষেও ভীষণ উপকারী।
তবে পুষ্টিগুণে ভরপুর হলেও আম খাওয়ার কিছু বিশেষ নিয়ম রয়েছে, যা না মানলে উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি হতে পারে। সাধারণত অনেকে সকালে বা দুপুরে আম খেয়ে থাকেন। তবে অনেকের আবার রাতে ডিনারের সঙ্গে কিংবা জুস করে আম খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে। চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলছেন, সকালে বা দুপুরে আম খাওয়া নিরাপদ হলেও সূর্য ডুবলে অর্থাৎ সন্ধ্যা বা রাতে ভুলেও আম খাওয়া উচিত নয়। এর ফলে শরীরে নানা গুরুতর শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, রাতের বেলা মানবদেহের খাবার হজম করার স্বাভাবিক প্রক্রিয়াটি বেশ স্লথ হয়ে যায়। সেই কারণে রাতের খাবারে আমের মতো উচ্চ পুষ্টিগুণ সম্পন্ন ফল রাখা একদমই ঠিক নয়। এটি রাতে বিপাক ক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটায়, যার ফলে বদহজম, গ্যাস, বুক জ্বালাপোড়া ও পেটেব্যথার মতো জটিল সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়া রাতে আম খেলে দ্রুত ওজন বাড়ার আশঙ্কা থাকে। আমে রয়েছে উচ্চ ক্যালোরি ও প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক সুগার। রাতে খাওয়ার পর শারীরিক পরিশ্রম কম হওয়ায় এই ক্যালোরি শরীরে জমে চর্বিতে রূপান্তর হয় এবং ওজন বাড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে আম খেলে শরীরের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে এনার্জির মাত্রা অনেক বেড়ে যায়। এর ফলে শরীর ক্লান্ত থাকলেও সহজে ঘুম আসতে চায় না, যা অনিদ্রার সমস্যা তৈরি করতে পারে।
তাহলে দিনে কখন এবং কীভাবে আম খাবেন—সেই বিষয়েও পুষ্টিবিদরা পরামর্শ দিয়েছেন। আমে যেহেতু চিনির ভাগ অনেক বেশি থাকে, তাই আম খাওয়ার সময় এর সঙ্গে সবসময় প্রোটিন অথবা ফ্যাট জাতীয় খাবার যুক্ত করা উচিত। এতে আম খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা আচমকা বা হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে না। আমের সঙ্গে টক দই মিশিয়ে খাওয়া একটি চমৎকার বিকল্প হতে পারে। এ ছাড়া চিয়া বীজ কিংবা পানিতে ভেজানো বাদামের সঙ্গে আম খেলেও তা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে দারুণ সাহায্য করে। তাই সুস্থ থাকতে আমের পুষ্টিগুণ উপভোগ করার পাশাপাশি এর সঠিক সময় ও নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
টিএইচএ/
