নিউজ ডেক্স:: গ্রীষ্মকালে দীর্ঘ সময় তীব্র গরমে থাকার কারণে অনেকেই পানিশূন্যতায় (ডিহাইড্রেশন) ভোগেন। অতিরিক্ত ঘাম শরীর থেকে প্রয়োজনীয় তরল ও খনিজ লবণ বের করে দেয়, ফলে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা ও ক্লান্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরমের সময় কোমল পানীয় বা প্যাকেটজাত জুসের পরিবর্তে ইলেকট্রোলাইটসমৃদ্ধ প্রাকৃতিক পানীয় পান করা শরীরের জন্য বেশি উপকারী। এসব পানীয় শরীরের তরল ও খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
ডাবের পানি
ডাবের পানি প্রাকৃতিকভাবে ইলেকট্রোলাইটে সমৃদ্ধ একটি সতেজ পানীয়। এক কাপ ডাবের পানিতে প্রায় ৬০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম, ৬০ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম এবং ২৫২ মিলিগ্রাম সোডিয়াম থাকে। এটি কম ক্যালরিযুক্ত এবং শরীরকে দ্রুত আর্দ্র রাখতে সহায়তা করে।
তরমুজের রস
তরমুজে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন সি রয়েছে। এসব উপাদান শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। গরমের দিনে তরমুজের তাজা রস হতে পারে প্রশান্তিদায়ক পানীয়।
লেবুর শরবত
লেবুর শরবত গ্রীষ্মের অন্যতম জনপ্রিয় পানীয়। পানির সঙ্গে তাজা লেবুর রস এবং সামান্য লবণ মিশিয়ে তৈরি করা এই পানীয় শরীরে ইলেকট্রোলাইটের মাত্রা বাড়াতে এবং পানিশূন্যতা প্রতিরোধে সহায়তা করে।
ঘরে তৈরি স্পোর্টস ড্রিংক
পানি, তাজা কমলার রস, এক চিমটি লবণ এবং এক চা চামচ মধু বা আগাভ সিরাপ মিশিয়ে সহজেই তৈরি করা যায় ঘরোয়া স্পোর্টস ড্রিংক। এটি প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইটের উৎস এবং বাজারের অনেক স্পোর্টস ড্রিংকের তুলনায় কম চিনি থাকে।
শসা
শসায় পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ রয়েছে। এর সঙ্গে পুদিনাপাতা যোগ করলে পানীয়টি আরও সতেজ ও সুস্বাদু হয়। গরমের দিনে এটি শরীরকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে।
অ্যালোভেরা জুস
অ্যালোভেরা জুসে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন, খনিজ ও অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে। এটি শরীরের পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে এবং হজমের জন্যও উপকারী হতে পারে। তবে অতিরিক্ত চিনি বা কৃত্রিম ফ্লেভারবিহীন বিশুদ্ধ অ্যালোভেরা জুস পান করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
হারবাল চা
ইলেকট্রোলাইটসমৃদ্ধ বিভিন্ন ভেষজ উপাদান দিয়ে তৈরি হারবাল চা গরমের দিনে একটি স্বাস্থ্যকর ও সতেজ বিকল্প হতে পারে। এটি শরীরের তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রীষ্মকালে পর্যাপ্ত পানি পান করার পাশাপাশি এসব প্রাকৃতিক পানীয় খাদ্যতালিকায় রাখলে পানিশূন্যতার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
এনআর/
