হাসান আল মাহমুদ >>
বাংলা একাডেমির তরুণ লেখক কর্মশালা ২০২৫–এর প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন নিয়ে সাহিত্য অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা। অনেকে নির্বাচনের পদ্ধতি ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, অন্যদিকে একাডেমি কর্তৃপক্ষ জবাব দিয়ে জানিয়েছে যে সবকিছুই নিয়মতান্ত্রিকভাবে কমিটির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।
ফেসবুকে সাহিত্যিক ও লেখকরা প্রকাশ্যে তাদের ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলে ধরছেন। লেখক ফরহাদ হাসান আহমেদ মন্তব্য করে বলেন, “হ্যাঁ, দেখালাম তো একাডেমির মহাপরিচালকের অনেক পরিচিত মুখকেই। কী কী ক্রাইটেরিয়ায় গ্রহণ করা হয়েছে, সেসব একটু যদি জানায়া দিতেন, ভালো লাগতো।”
লেখক মাহমুদুল হক জালীস আরও সরাসরি ভাষায় অভিযোগ করে বলেন, “ঘোষণাপত্রে ছিল কবিতা, ছড়া, গল্প, নাটক, উপন্যাস এই ক্যাটাগরিগুলোতে নিয়োগের কথা। জানতে চাচ্ছি কোন কোন ক্যাটাগরিতে কাকে কাকে নির্বাচন করেছেন এবং কিসের ভিত্তিতে?” তিনি অভিযোগ করেন যে, মাদ্রাসা ব্যাকগ্রাউন্ডের লেখকদের বঞ্চিত করা হয়েছে এবং সব ক্যাটাগরিতে সমান সুযোগ দেওয়া হয়নি।
পুরনো প্রজন্মের লেখক আশরাফ পিন্টু ১৯৯৬-৯৭ সালের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, “তখন লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষার মাধ্যমে আমাদের নির্বাচিত করা হয়েছিল। এখন যেভাবে করা হয়েছে, তাতে প্রশ্ন উঠতেই পারে। লিখিত পরীক্ষা নিলে এমন বিতর্ক হতো না।”
একই সুরে কথা বলেন লেখক আরিফ হোসেন সবুজ। তিনি বলেন, “এত বড় একটি প্রতিষ্ঠানের এ কেমন ধৃষ্টতা? এটা কি গ্রামের কেজি স্কুল যে এভাবে স্টুডেন্ট নেওয়া হলো? তালিকা প্রকাশ করুন, এই তালিকা পর্যালোচনা করবে বাংলাদেশের আঠারো কোটি জনগণ!”
বাংলা একাডেমির ব্যাখ্যা
এই সমালোচনার প্রেক্ষিতে বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, “এ মনোনয়নও একটি কমিটি সম্পন্ন করেছে এবং লেখক-সাহিত্যিকদের নিয়ে গঠিত এ কমিটিতে বাংলা একাডেমির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউ সম্পৃক্ত ছিল না। সুপারিশের ভিত্তিতে এ তালিকার একজনকেও নির্বাচন করা হয়নি।”
তালিকা প্রকাশ না করার বিষয়ে তিনি বলেন, “অফিস-সময়ে ক্লাস হবে বলে নির্বাচিত লেখকদের কেউ কেউ প্রশিক্ষণে যোগ দেওয়া নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন। ফলে আমরা দুই-এক জনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানাতে পারছিলাম না। শূন্যপদ পূরণের জন্য একটি অপেক্ষমাণ তালিকাও রাখা হয়েছিল।”
তিনি জানান, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৯ জন নিয়ে এবং অবশিষ্ট একজনের সাথেও যোগাযোগ সম্পন্ন হয়েছে। শিগগিরই তালিকা প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে গবেষণা ও বৃত্তির তালিকাও একইভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।
সমালোচনার পেছনে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার দাবি
সমালোচকরা বলছেন, বাংলা একাডেমির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে লেখক নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনো ধরণের গোপনীয়তা বা পক্ষপাত চলবে না। স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে লিখিত পরীক্ষাসহ উন্মুক্ত পদ্ধতিই ছিল সঠিক পথ।
তবে একাডেমি বলছে, লেখক ও পাঠকদের উদ্বেগকে তারা নিয়মতান্ত্রিকতা প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা হিসেবে দেখছেন এবং এজন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছেন।
সাহিত্যিক সমাজের অনেকে আশা করছেন, বাংলা একাডেমি ভবিষ্যতে আরও স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে যাতে কারো ন্যায্য অধিকার উপেক্ষিত না হয়। আলোচনা চলমান, আন্দোলনের ইঙ্গিতও স্পষ্ট।
হাআমা/
