পাকিস্তানকে নদীর পানি থেকে বঞ্চিত করতে গিয়ে উল্টো নিজেদের জন্যই ভয়াবহ বিপদ ডেকে এনেছে ভারত। সিন্ধু পানি চুক্তির আওতাভুক্ত নদীগুলোর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে হিমাচল প্রদেশে সৃষ্টি হয়েছে মারাত্মক বন্যা। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৩ জনের মৃত্যু ও ৩৭ জন নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মান্ডি জেলায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৪ জন। সরকারি হিসেবে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০০ কোটি রুপি এবং ধ্বংস হয়েছে ১৫০টিরও বেশি ঘরবাড়ি। রাজ্যজুড়ে ৭ জুলাই পর্যন্ত জারি রয়েছে রেড অ্যালার্ট।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এই দুর্যোগের জন্য অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলকে দায়ী করলেও, বিশ্লেষকরা বলছেন, এর পেছনে রয়েছে ভারতের ‘জল-রাজনীতি’। তারা দাবি করছেন, পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে গিয়ে চেনাব নদীর প্রবাহ ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে দিয়েছিল ভারত, যা এখন উল্টো বুমেরাং হয়ে ফিরে এসেছে।
বাঁধের রাজনীতি ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়
সিন্ধু চুক্তিভুক্ত চেনাব ও সুতলেজ (শতদ্রু) নদী—যেগুলো ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশেই প্রবাহিত—সেগুলোর ওপর ভারত একতরফাভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বাগলিহার বাঁধের মাধ্যমে চেনাব নদীর পানি পাকিস্তানে যেতে না দিয়ে আটকে রাখা হয়। কিন্তু আচমকা বাঁধ খুলে দেওয়ায় হিমাচলে নেমে আসে আকস্মিক বন্যা।
যদিও ভারতীয় আবহাওয়াবিদরা জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করছেন, তবু পানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাধ্যতামূলক তথ্যপ্রদান না করে বাঁধের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নদীর স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করাই এই বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ।
রাজনৈতিক বিতর্কে কঙ্গনা রানাউত
এই দুর্যোগের মাঝেই আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন হিমাচলের মান্ডি থেকে নির্বাচিত সাংসদ কঙ্গনা রানাউত। শুরু থেকে তার অনুপস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা চলছে। বিজেপির প্রবীণ নেতা জয়রাম ঠাকুরও কঙ্গনার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“আমরা সব সময় মানুষের পাশে থাকি, কিন্তু কেউ কেউ থাকেন না—তা নিয়ে আর কিছু বলার নেই।”
পরে কঙ্গনা দাবি করেন, তিনি দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে যেতে চাইলেও জয়রাম ঠাকুর তাকে রেড অ্যালার্টের কারণে অপেক্ষা করতে বলেছেন। সমালোচকদের প্রশ্ন, নির্বাচনের সময়ও তো দুর্যোগ ছিল, তখন তো তাকে থামানো হয়নি!
চীনের হুঁশিয়ারি
গত এপ্রিল মাসে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে সিন্ধু পানি বণ্টন চুক্তি স্থগিত করে দেয়। যদিও এখনও পুরোপুরি পানি আটকে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেয়নি, তবে চেনাবসহ একাধিক নদীর প্রবাহ বাঁধের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখছে। অনেকেই এটিকে বলছেন “মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ”।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়। কারণ ভারতের প্রধান দুই নদী ব্রহ্মপুত্র ও সিন্দুর উৎস চীনে। আর চীন এরই মধ্যে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ‘পানির রাজনীতি করলে এর পরিণতি ভারতের পক্ষেই ভয়াবহ হতে পারে।’
বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক চাপ তৈরির জন্য নদীর প্রবাহকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা যেমন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি এর প্রথম ভুক্তভোগী হয়ে উঠতে পারে ভারত নিজেই—হিমাচলের এই বন্যা তার জ্বলন্ত প্রমাণ।
হাআমা/
