রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৩০ কাঠা প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা, টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীর বিরুদ্ধে পৃথক তিন মামলায় দ্বিতীয় দিনে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। একই সাথে এ তিন মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৪ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সকালে ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ আদালতে সাক্ষ্য দেন রাজউকের তিন কর্মকর্তা। এরা হলেন- রাজউক উপপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান, সহকারী পরিচালক অসীম শীল ও পরিচালক উল্লাস চৌধুরী।
এসব সাক্ষীরা রেহানার পক্ষ থেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে প্লট বরাদ্দের আবেদনের চিঠি এবং আসামিদের মিথ্যা হলফনামাসহ জব্দ তালিকার ৪৪টি নথির বিষয়ে সাক্ষ্য দেন।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর খান মোহাম্মদ মঈনুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানা ও তার সন্তানরা তিনটি হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। কারণ তাদের ঢাকা শহর এবং আশপাশে শহরে ফ্ল্যাট বাড়ি থাকা সত্ত্বেও মিথ্যা হলফনামা দিয়ে রাজউকে প্রেরণ করে। সেখান তারা জানিয়েছেন, ঢাকা বা নারায়ণগঞ্জের আশপাশে তাদের কোন বাড়িঘর নেই বা অন্য কোনো সম্পত্তি নাই। নিজ নামে বা পোষ্যদের নামে কোনো সম্পত্তি নেই। যেহেতু তাদের সম্পত্তি নেই সেহেতু তারা অসহায়। সম্পত্তি, ফ্ল্যাট ও প্লট দরকার সেকারণে তারা মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন।
এর আগে এসব মামলায় সাক্ষ্য দেন মামলার বাদী দুদকের উপপরিচালক সালাহউদ্দিন, সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া এবং সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান।
গত ৩১ জুলাই এসব মামলায় চার্জ গঠন করে বিচার শুরু আদেশ দেন একই আদালত। চার্জ গঠন শুনানির সময়ে আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পৃথক তিন মামলায় শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা, টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীসহ ২৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। অপর তিন মামলায় শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ৪৭ জনকে আসামি করা হয়।
এআইএল/
