নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণায় প্রতিক্রিয়ায় যা জানালো রাজনৈতিক দলগুলো

by hsnalmahmud@gmail.com

হাসান আল মাহমুদ >>

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২৪ দফা অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোডম্যাপ অনুযায়ী আগামী রোজার আগেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই হিসেবে সেপ্টেম্বরেই রাজনৈতিক দল ও অংশীজনের সাথে সংলাপে বসবে নির্বাচন কমিশন। আর তফসিল দেয়া হবে নির্বাচনের দুই মাস (৬০ দিন) আগে।

বিজ্ঞাপন
banner

বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ রোডম্যাপ ঘোষণা করেন। ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে এবং তফসিল ঘোষণা করা হবে চলতি বছরের ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে।

এদিকে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো।

বিএনপি

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘রোডম্যাপ ঘোষণা হয়েছে। আমরা এতে আশাবাদী হয়েছি, এই রোডম্যাপ থেকে বুঝা যায়, নির্বাচন কমিশন ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। মূল কথা হচ্ছে আমরা খুশি… উই আর হ্যাপী।’

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে গণমাধ্যমকে দেওয়া তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণায় জাতির প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে।’

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আসন্ন নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার বিষয়টিকে বিএনপি ইতিবাচক হিসেবে দেখছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘যথাযথ সময়ে রোডম্যাপটি ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের দিকে থেকেও একই রকম নির্দেশনা ছিল। এখন রোডম্যাপ অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেওয়া হবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

এদিকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভোটের রোডম্যাপ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে দলটির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘মানুষ এখন নির্বাচনমুখী হচ্ছে। পুরো জাতি ভোটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচন হলে দেশের অর্থনীতিতে বড় একটা পরিবর্তন আসবে। এখন রাজনীতির সময় শেষ হয়ে গেছে, জাতি গঠনের সময় এসেছে। জনগণ জবাবদিহিমূলক সরকার চায়। ভোটের পর অর্থনীতির পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হবে। ১৮ মাসে ১ কোটি মানুষকে চাকরি দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বিএনপির। তবে সব অংশীজনদের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।’

জামায়াতে ইসলামী

নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্তৃক ঘোষিত রোডম্যাপের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত রোডম্যাপ গতানুগতিক এবং কিছুটা বিভ্রান্তিমূলক। জাতির প্রত্যাশা আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে। কিন্তু কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তা এখনো ঠিক হয়নি। এমনকি জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান এবং এর বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত হয়নি। এমতাবস্থায় এই রোডম্যাপ ঘোষণা অপরিপক্ক ও আংশিক। এতে জনপ্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি। জুলাই বিপ্লবের স্পিরিট ধারণ করে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার প্রয়োজনে জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান এবং এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করে রোডম্যাপ ঘোষণা করা উচিত ছিল বলে আমরা মনে করি।’

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্মমহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আধুনিক জাতিরাষ্ট্রে নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। আমরাও নির্বাচনের জন্য মুখিয়ে আছি। কিন্তু আজকের বাংলাদেশ একটি রক্তস্নাত বিশেষ পরিস্থিতিতে বিরাজ করছে। গত ২৪ এর জুলাইয়ে ছাত্র-জনতা রক্ত ও জীবন উৎসর্গ করেছে ৫৪ বছরের জঞ্জাল দুর করার জন্য, দেশ থেকে স্বৈরতন্ত্র থেকে চিরস্থায়ী মুক্তির জন্য। সেই বিষয়ে কোন রোডম্যাপ না দিয়ে পুরোনো বন্দোবস্তের নির্বাচনী রোডম্যাপ জুলাইকে অস্বীকার করার নামান্তর। জাতি সংবিধান, রাজনৈতিক সংস্কৃতিসহ সামগ্রিক সংস্কারের জন্য অধির অপেক্ষা করছে। সংস্কারের জন্য নানা কার্যক্রম হয়েছে কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, সংস্কারের সকল চেষ্টাই এখন কাগুজে দলীলে পরিণত হয়েছে। মৌলিক সংস্কারের সামান্যতমও বাস্তবায়ন হয় নাই। তাই অন্য যে কোন রোডম্যাপের আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের রোডম্যাপ দিতে হবে। জুলাই সনদের আইনী ভিত্তি নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়া যায় নাই, সংবিধানে থাকা স্বৈরাচার তৈরির আইনী সুযোগ এখনো রোধ করা যায় নাই, বিগত ৫৪ বছরে চর্চিত অশুভ নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার করা যায় নাই। নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে রাজনীতিতে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করা জাতির আশা, আকাঙ্খা, উদ্বেগ-উৎকন্ঠাকে উপেক্ষা করে পুরোনো অশুভ রাজনৈতিক বন্দোবস্তকে জিইয়ে রাখার অপচেষ্টা ছাড়া কিছু না। নির্বাচন কি বিদ্যমান নিয়মে হবে না পিআর পদ্ধতিতে হবে তা নিয়ে কোন সমাধান হয় নাই। অনেক রাজনৈতিক দল পিআর চাইছে। এর একটা সুরাহা হওয়ার আগেই এমন কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করার নৈতিক অধিকার নির্বাচন কমিশনের নাই। রোডম্যাপে যা বলা হয়েছে তা প্রায় সবই নির্বাচন কমিশনের রুটিন ওয়ার্কের অংশ। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে জনতার দাবীর বিষয়ে আলোচনার কোন সূচি রাখা হয় নাই। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখও বলা হয় নাই। একটি সারবস্তুহীন স্মার্ট এই উপস্থাপনার লক্ষ নিয়ে আমরা সন্দিহান। জুলাই সনদের আইনী ভিত্তি ও পিআর নিয়ে যে আলোচনা তা ধামাচাপা দেয়ার একটা প্রচেষ্টা বলেই মনে হচ্ছে। নির্বাচনের রোডম্যাপ দিয়েছেন; ভালো। এখন দ্রুততার সাথে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে। অন্যাথায় জুলাই অভ্যুত্থানের মূল লক্ষই ব্যর্থ হবে, আর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তা হতে দেবে না।’

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)

দলটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ছিল বিচার ও সংস্কার। সেই লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন সংস্কার কমিশন গঠন করে। যেখানে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মতো জাতীয় নাগরিক পার্টিও নিজেদের মতামত তুলে ধরে। এই সংস্কার কার্যক্রম চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে ঐকমত্য কমিশন প্রণীত জুলাই সনদের খসড়া কিছুদিন আগে আমাদের কাছে এসে পৌঁছায় এবং এ বিষয়ে আমরা আমাদের মতামত তুলে ধরে তা কমিশনের কাছে জমা দিয়েছি। যদিও, জুলাই সনদের খসড়ায় সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিষ্কার কোনো রোডম্যাপ না থাকা আমাদের হতাশ করেছে। জুলাই সনদের আগে নির্বাচনী রোডম্যাপ সরকারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের শামিল।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ৬টি উপায় নিয়ে ঐকমত্য কমিশনে মতামত পাওয়া গেছে। যার মধ্যে আমরা গণপরিষদ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছি। অন্যান্য দলের প্রস্তাবে গণভোট ও সংবিধান সংস্কার সভাসহ বিভিন্ন প্রস্তাব রয়েছে। কোন প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়ন করা হবে, তার সঙ্গে নির্বাচনী প্রস্তুতির সম্পর্ক রয়েছে।

এই আলোচনা চলাকালেই প্রধান উপদেষ্টা একপাক্ষিকভাবে নির্বাচনের সময় ঘোষণা আমাদের হতবাক করলেও, বৃহত্তর স্বার্থে আমরা তা মেনে নিয়েছিলাম। প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, ২০২৬ সালের পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার আগের সপ্তাহে নির্বাচন আয়োজন করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে সেই সময়ের মধ্যে সংস্কার ও বিচারের বিষয়ে পর্যাপ্ত অগ্রগতি অর্জন করা প্রয়োজন হবে।

আমরা আশা করেছিলাম, নির্বাচনী রোডম্যাপ প্রকাশের পূর্বেই সরকার সংস্কারবিষয়ক পর্যাপ্ত অগ্রগতি অর্জনের রোডম্যাপ প্রকাশ করা হবে। কিন্তু আমরা হতাশার সঙ্গে লক্ষ্য করছি অজানা কারণে ঐকমত্য কমিশনের পরবর্তী দফার বৈঠক পেছানো হয়েছে এবং এখনো জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়ার উপায় নির্ধারিত হয়নি।

জুলাই সনদ চূড়ান্ত এবং বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ততে উপনীত না হয়ে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা ঐকমত্য কমিশন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের শামিল। আমরা মনে করি ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা থেকে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য নির্বাচন আয়োজন প্রয়োজন, আমরা কোনোভাবেই নির্বাচনবিরোধী নই। সেদিক থেকে রোডম্যাপ ঘোষণা ইতিবাচক তবে, যত দ্রুত জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি হবে, তত দ্রুত নির্বাচনের দিকে যাওয়া যাবে। সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত না করে নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ ভবিষ্যতে সংকট তৈরি করতে পারে, যার দায় সরকারকেই নিতে হবে।”**

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ

মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, ‘রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত নির্বাচনী রোডম্যাপকে স্বাগত জানাই। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সাধন এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা এই মূহুর্তে একটি বড় চ্যালেঞ্জিং বিষয়। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী কোন রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী যেন কোনরূপ বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার না হয় সে রকম পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। গত তিন তিনটি নির্বাচনে দেশের ভোটার জনতা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি, সাংবিধানিক এই অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন নতুন ভোটাররাও। স্বাভাবিক কারণে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে জনমনে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। আজকের ঘোষিত রোডম্যাপের মধ্য দিয়ে এই আগ্রহ পুরণের পথ আরো সুগম হল।’

খেলাফত মজলিস

দলটির মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আজ যে রোডম্যাপ ঘোষণা দেয়া হয়েছে তা কার্যকর হতে হবে জুলাই সনদের ভিত্তিতে। এর পূর্বেই জাতীয় ঐক্যমতের আলোকে জুলাই সনদ ঘোষণা এবং রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে তার আইনি ভিত্তি দিতে হবে। তা না হলে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। পেশীশক্তি ও কালো টাকার প্রভাবমুক্ত একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা নতুন বাংলাদেশে সকলের। নির্বাচনের পূর্বেই প্রয়োজনীয় সংস্কার জরুরি। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন এখনো কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারছে না। গণহত্যাকারী পতিত ফ্যাসিস্টদের বিচারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়। গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তি বাংলাদেশকে নতুনভাবে বিনির্মাণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রয়োজনীয় সংস্কারের পক্ষে জনরায় শুরু থেকেই রয়েছে। সরকারকে জনরায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।’

হাআমা/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222