96
আফগানিস্তানের বাগরাম ঘাঁটি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও তালেবান সরকারের অবস্থান স্পষ্ট— এ ঘাঁটি কেবল আফগানিস্তানেরই।
ইমারাতে ইসলামিয়ার মুখপাত্র মাওলানা জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “বাগরাম ঘাঁটি আফগানিস্তানের মাটির অংশ। এটি না আমেরিকার, না চীনের। আমরা কখনোই দেশের কোনো অংশ বিক্রি বা হস্তান্তর করব না।”
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ওয়াশিংটন বাগরাম ঘাঁটি ফেরত চাইছে। তার মতে, তালেবানদের এখনও আমেরিকার কাছ থেকে অনেক কিছু প্রয়োজন, তাই এ ধরনের আলোচনা সামনে আসতে পারে। তবে মুজাহিদ তার জবাবে জানান, বিদেশি বিনিয়োগকে তারা স্বাগত জানালেও আফগান জমি কারও কাছে বিক্রি বা ছেড়ে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
বাগরাম ঘাঁটি আফগানদের কাছে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক ও ক্ষোভের প্রতীক। সোভিয়েত আগ্রাসন থেকে শুরু করে দুই দশকের মার্কিন দখলদারিত্ব— এ ঘাঁটি ছিল সামরিক অভিযান ও বন্দিশিবিরের কেন্দ্র, যেখানে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।
মুজাহিদ বলেন, “আমেরিকানদের মনে রাখা উচিত, খারাপ কাজের ফল খারাপই হয়। টানা ২০ বছর আফগানিস্তান ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা পার করেছে। শেষ পর্যন্ত আমেরিকা সেনা প্রত্যাহারে বাধ্য হয়েছে। আফগানিস্তানকে দখল করা কখনো সম্ভব নয়।”
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আফগানিস্তানের ভৌগোলিক অবস্থান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বাগরাম ঘাঁটি আবারও যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার নজরে এসেছে। তবে তালেবান সরকার এককথায় জানিয়ে দিচ্ছে— বিদেশি শক্তির স্থায়ী উপস্থিতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
এনএ/