আমানুল্লাহ নাবিল মামদুহ >>
সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোরালো উপস্থিতি নিয়ে মাঠে নামছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এই সহযোগী যুব সংগঠনের শীর্ষ ৯ নেতা এবার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই যুবকদের একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সারাদেশে বিস্তৃতি লাভ করেছে। এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক পীর সাহেব চরমোনাই, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মো. রেজাউল করীম।
মনোনয়নপ্রাপ্ত ৯ নেতা ও তাদের আসন
১. ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মারুফ শেখ — গোপালগঞ্জ-৩
ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি। টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া নিয়ে গঠিত গোপালগঞ্জ-৩ আসনে সামাজিকভাবে পরিচিত মুখ হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
২. মুফতী মানসুর আহমদ সাকী — চাঁদপুর-২
সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ও ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক। মতলব উত্তর ও দক্ষিণ নিয়ে গঠিত এ আসনে তিনি সুপরিচিত। তার পিতা পীর সাহেব বাগিচাপুর রহ. area’s একজন সম্মানিত আলেম ছিলেন।
৩. মুফতী এইচ এম আবু বকর — পটুয়াখালী-৩
যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক। গলাচিপা ও দশমিনা নিয়ে গঠিত আসনে নির্বাচন করবেন।
৪. মাওলানা এস এম আজিজুল হক — মাদারীপুর-৩
ফরিদপুর বিভাগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। কালকিনি, ডাসার এবং সদর আংশিক নিয়ে গঠিত এ আসনে লড়বেন তিনি।
৫. মুফতী আহমাদ আব্দুল জলিল — ঝিনাইদহ-৪
কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক। কালীগঞ্জ উপজেলা ও সদর আংশিক নিয়ে গঠিত আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
৬. এডভোকেট বায়েজিদ হোসাইন — যশোর-৪
কেন্দ্রীয় আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক। অভয়নগর, বাঘারপাড়া ও বসুন্দিয়া এলাকা নিয়ে গঠিত আসনে লড়বেন।
৭. মুফতী জাহিদুল ইসলাম — জামালপুর-৩
কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য। মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ নিয়ে গঠিত আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
৮. সৈয়দ তৌহিদুল ইসলাম তুহিন — গাইবান্ধা-৪
কেন্দ্রীয় পরামর্শ পরিষদ সদস্য ও গাইবান্ধা জেলা সভাপতি। গোবিন্দগঞ্জ নিয়ে গঠিত আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
৯. মাওলানা আনোয়ার হোসেন ফরিদী — পাবনা-৪
কেন্দ্রীয় পরামর্শ পরিষদ সদস্য ও পাবনা জেলা (পশ্চিম) সভাপতি। আটঘরিয়া ও ঈশ্বরদী নিয়ে গঠিত আসনে লড়বেন।
প্রচারণায় গতি ও মাঠ পর্যায়ে সক্রিয়তা
দলীয়ভাবে নাম ঘোষণার পর থেকেই প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় ব্যাপক প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। স্থানীয় সংকট ও জনদুর্ভোগকে সামনে রেখে মানুষের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করছেন তারা।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান, বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি, বাইতুল মোকাররম উত্তরের সমাবেশে পুলিশের হামলায় অর্ধশতাধিক আহত হওয়া—এসব অভিজ্ঞতা সংগঠনের তৃণমূল কর্মীদের আরও ঐক্যবদ্ধ করেছে। ফলে তারা “জুলাই সনদ” বাস্তবায়ন ও ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে সামনে রেখে এবার নির্বাচনে জয়ের পরিবেশ দেখছেন।
ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ মনে করছে, ইসলাম ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ তৃণমূল জনতা পরিবর্তনের পক্ষে দাঁড়াবে, এবং তাদের প্রার্থীরা বিভিন্ন আসনে উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবেন।
এ বিষয়ে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের সেক্রেটারি মাওলানা মানসুর আহমাদ সাকী ৩৬ নিউজকে বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি—এই দেশের যুবকরাই পরিবর্তনের প্রধান শক্তি। ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের শীর্ষ ৯ নেতাকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে মূলত যুবসমাজের সেই শক্তিকে ইতিবাচক পথে কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যেই। আমরা জনগণের আস্থা, অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমেছি।’
‘দেশ আজ নৈতিক নেতৃত্বের ঘাটতিতে ভুগছে। মানুষের জীবন-জীবিকা, শিক্ষাব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা—সবক্ষেত্রেই সংকট স্পষ্ট। আমরা সে সংকটকে সামনে রেখে মানুষের জন্য সমাধানভিত্তিক, স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল রাজনীতি করতে চাই। আমাদের প্রার্থীরা কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়—মানুষের কল্যাণ, ইসলামি মূল্যবোধ এবং শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।’ -বলেন তিনি
চাঁদপুর-২ আসনের এই এমপি পদপ্রার্থী আরও বলেন, ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই সনদের চেতনা আমরা ভুলিনি। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আমরা দেশজুড়ে মাঠে আছি, মানুষের পাশে আছি, এবং নির্বাচনেও সেই সাহস ও দায়িত্ব নিয়ে অংশগ্রহণ করছি। ইনশাআল্লাহ, জনগণ যদি আমাদের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে আমরা সংসদে যুবসমাজের ন্যায্য দাবি ও সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলো শক্তভাবে তুলে ধরতে পারব। আমরা আশাবাদী—বাংলাদেশের সভ্য, শান্তিপ্রিয়, ইসলামপন্থী তরুণরা এবার পরিবর্তনের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেবেন।’
হাআমা/
