চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি নিয়ন্ত্রণ নয়, দেশেরই চান হেফাজতসহ ইসলামি দলগুলো

by hsnalmahmud@gmail.com

আমানুল্লাহ নাবিল মামদুহ >>

দেশের প্রধান বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেয়ার বিষয়ে গোপন চুক্তি সম্পন্ন করার খবর দেশের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিজ্ঞাপন
banner

চট্টগ্রাম বন্দরের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালের মধ্যে পাঁচটি বিদেশি অপারেটরের হাতে চলে যেতে পারে। শুধু জেনারেল কার্গো বার্থ (GCB) এবং চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (CCT) বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজেই পরিচালনা করছে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তকে জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী ও অস্বচ্ছ বলে কঠোর সমালোচনা করেছে দেশের ইসলামপন্থী দল ও আলেমরা।

চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেয়ার প্রতিবাদে হেফাজতের বিবৃতি

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর আমীর আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান এক বিবৃতিতে
চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেয়ার খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তারা বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক শক্তির প্রাণকেন্দ্র। এমন একটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর বিদেশি প্রতিষ্ঠান বা শক্তির হাতে ব্যবস্থাপনাগতভাবে স্থানান্তর করার যেকোনো উদ্যোগ রাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে স্পষ্ট হুমকি এবং জাতীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিতে পারে।

আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—চট্টগ্রাম বন্দরের নিয়ন্ত্রণ কোনোভাবেই বিদেশি সংস্থার হাতে দেওয়া যাবে না। এ ধরনের পদক্ষেপ দেশের ভবিষ্যৎ, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। কৌশলগত স্থাপনা পরিচালনার নামে কোনো বিদেশি আধিপত্য, বিশেষ সুবিধা বা গোপন চুক্তি জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সম্পূর্ণ অসংগত এবং অগ্রহণযোগ্য।

জনগণের অগণিত ত্যাগ ও শ্রমে গড়ে ওঠা চট্টগ্রাম বন্দর সম্পর্কিত যেকোনো সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা, জনআস্থার প্রতি সম্মান, এবং রাষ্ট্রীয় কঠোর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে গ্রহণ করতে হবে। জনগণের অজান্তে বা গোপন আলোচনা ও চুক্তির মাধ্যমে দেশের কৌশলগত সম্পদ হস্তান্তরের চেষ্টা আমরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করি।

তারা বলেন, আমরা জোর দিয়ে বলছি—জাতীয় সম্পদ রক্ষার প্রশ্নে কোনো শিথিলতা, সমঝোতা বা বিদেশি চাপ গ্রহণযোগ্য নয়।
চট্টগ্রাম বন্দর দেশের, দেশেরই থাকবে—এটি রক্ষায় প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ নাগরিক সতর্কতা ও গণআন্দোলন গড়ে তুলতে প্রস্তুত রয়েছি।

লালদিয়া ও পানগাঁও বন্দর নিয়ে গোপন চুক্তি জাতির সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র : বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস

লালদিয়া ও পানগাঁও বন্দরের পরিচালনা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর–সংক্রান্ত অস্বচ্ছ আলোচনা ও গোপন সমঝোতার যেকোন প্রচেষ্টাকে জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক অশনিসংকেত হিসেবে অভিহিত করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমেদ।

আজ বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন—লালদিয়া, পানগাঁও কিংবা দেশের যেকোনো বন্দর—এগুলো কেবল অর্থনৈতিক স্থাপনা নয়; এগুলো কৌশলগত নিরাপত্তার স্তম্ভ। দরপত্রবিহীন, তড়িঘড়ি বা গোপন প্রক্রিয়ায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকে ঘোর বিপদের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

তিনি আরও বলেন— প্রথমত বন্দর পরিচালনা ও উন্নয়ন দেশীয় সক্ষমতা দিয়েই করা উচিত । বিশেষ প্রয়োজন হলে বিদেশি বিশেষজ্ঞ নেওয়া যেতে পারে, তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ও সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণ কোনোভাবেই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়া যাবে না।

মহাসচিব সতর্কতা উচ্চারণ করে বলেন— জাতির কৌশলগত সম্পদ নিয়ে গোপন সমঝোতা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। লালদিয়া ও পানগাঁও বন্দর দেশের সম্পদ—দেশেরই অধীনেই থাকতে হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি কোম্পানিকে ইজারায় জাতীয় স্বার্থ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে: বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি

বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমীর আল্লামা সরওয়ার কামাল আজিজি এবং মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার আজ গণমাধ্যমে প্রেরিত এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন—“চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর কেবল একটি বাণিজ্যিক স্থাপনা নয়; এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, কৌশলগত ও সার্বভৌম নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। এ বন্দরকে কোনো বিদেশি কোম্পানির হাতে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেশের স্বার্থবিরোধী, আত্মনির্ভরশীলতা বিরোধী ও জাতির ভবিষ্যতের জন্য হুমকিস্বরূপ।”

নেতৃদ্বয় আরও বলেন, যে কোনো জাতীয় সম্পদ পরিচালনার ক্ষেত্রে দেশের দক্ষ জনবল, অভ্যন্তরীণ প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। বিদেশি নিয়ন্ত্রণের আওতায় এ বন্দর গেলে অর্থনৈতিক তথ্য ফাঁস, কৌশলগত হস্তক্ষেপ ও জাতীয় নির্ভরতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।

তাঁরা সরকারকে সিদ্ধান্ত বাতিলের আহ্বান জানিয়ে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর যেন কোনোভাবেই বিদেশি নিয়ন্ত্রণে না যায়—এটি জাতির নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্ন। আমরা দেশের সচেতন নাগরিক, রাজনৈতিক দল ও জাতীয় প্রতিষ্ঠানসমূহকে আহ্বান জানাই—এই ষড়যন্ত্রমূলক চুক্তির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলুন।”

বিদেশীদের সাথে চট্টগ্রাম বন্দরের চুক্তির বিষয়গুলো প্রকাশ করুন : খেলাফত মজলিস

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সভায় নেতৃবৃন্দ উদ্বেগের সাথে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের অধীন দু’টি কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দিতে বিদেশী দু’টি প্রতিষ্ঠানের সাথে গত সোমবার চুক্তি করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। দ্রুততার সঙ্গে এসব চুক্তি সম্পাদন এবং চুক্তির বিষয়গুলো প্রকাশ না করা দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। এর মধ্যে সরকার বন্দর ব্যবহারকারীদের মাশুল ৪১ শতাংশ বাড়িয়েছে। যা চট্টগ্রাম বন্দরকে বিশ্বের ব্যয়বহুল বন্দরে পরিণত করবে এবং পণ্য আমদানিতে খরচ বাড়াবে। যার বোঝা বহন করবেন ভোক্তারা। এতে মূল্যস্ফীতির হার বাড়বে। আমরা অবিলম্বে চুক্তির বিষয়গুলো প্রকাশ করার দাবি জানাচ্ছি। এতে দেশের স্বার্থবিরোধী কোন ধারা থাকলে জনগণ তা মানবে না।

উল্লেখ্য, সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে বন্দর ব্যবহারকারীদের মাশুল ৪১% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পণ্য আমদানির খরচ বাড়াবে এবং মূল্যস্ফীতির হার বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি করবে। ইসলামি দল ও আলেমরা বলছেন, দেশের কৌশলগত সম্পদে কোনো বিদেশি আধিপত্য গ্রহণযোগ্য নয় এবং চট্টগ্রাম বন্দর দেশেরই থাকবে।

হাআমা/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222