যৌনাচার–মাদকতা থেকে বাউলবাদ, আবুল সরকার ইস্যুতে দেশজুড়ে ক্ষুব্ধতা

by hsnalmahmud@gmail.com

আব্দুল্লাহ কাসিম আজওয়াদ >>

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জাবরা এলাকায় ৪ নভেম্বরের রাতে অনুষ্ঠিত একটি বাউল পালাগানের আসর—সেখান থেকেই শুরু দেশজুড়ে উত্তাল পরিস্থিতি। অনুষ্ঠানে গান পরিবেশনের সময় বাউল শিল্পী আবুল সরকার ইসলাম ও আল্লাহ তায়ালাকে নিয়ে “অশালীন ও কটূক্তিপূর্ণ মন্তব্য” করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে স্থানীয় আলেম-ওলামা ও তৌহিদি জনতা। পরে তাদের মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও অভিযোগের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ বিশেষ অভিযানে মাদারীপুর থেকে আবুল সরকারকে গ্রেপ্তার করে মানিকগঞ্জে নিয়ে আসে।

বিজ্ঞাপন
banner

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মামলা ও প্রতিক্রিয়া

ঘিওর বন্দর মসজিদের ইমাম মুফতি আব্দুল্লাহ বাদী হয়ে ঘিওর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়—আবুল সরকার গান পরিবেশনের সময় আল্লাহর প্রথম সৃষ্টি নিয়ে বিকৃত ধারণা উপস্থাপন করেন, কুরআন-হাদীসের নামে ভ্রান্ত ব্যাখ্যা দেন এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানেন।

ঘিওর থানা ওসি কহিনুর ইসলাম জানান—“ধর্ম অবমাননা করে বিভ্রান্তিমূলক কথা বলার অভিযোগ তদন্তাধীন, সঠিক প্রক্রিয়ায় বিচার হবে।”

আসিফ সৈকতের কঠোর অবস্থান

অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট আসিফ সৈকত তার যাচাইকৃত ফেসবুক আইডিতে লেখেন—
“বাউল সরকারকে মুক্ত করা যাবে না। প্রচলিত আইনে তার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি স্পষ্টভাবে ধর্ম অবমাননা করেছেন, আল্লাহ সম্পর্কে জঘন্য মিথ্যাচার করেছেন।”

তিনি অভিযোগ করেন—

  • “মজহার গ্রুপ” বাউল আবুলকে রাজনৈতিক টোপ হিসেবে ব্যবহার করেছে।
  • বিষয়টি “মওদূদীবাদ + মজহারবাদ বনাম বিএনপি + ইসলামিক দল”—এমন এক রাজনৈতিক খেলার অংশ।
  • বাউল যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা ইসলামী আকীদা-আসমাউস-সিফাতের কোথাও মেলে না এবং সম্পূর্ণ মনগড়া।

তিনি আরও বলেন—“বাউলের এসব আজেবাজে তথ্য কোথা থেকে এসেছে, পুলিশকে তা বের করতে হবে।”

অনন্য মামুনসহ শিল্পী সমাজের প্রতিক্রিয়া

চলচ্চিত্র নির্মাতা অনন্য মামুন লিখেছেন—‘শিল্পীর দোহাই দিয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অধিকার কারও নেই। যে ভাষায় তিনি আল্লাহ সম্পর্কে কটূক্তি করেছেন, তার সঠিক বিচার হওয়া জরুরি।’

তিনি আরও বলেন—‘কেউ শিল্পী বলেই ছাড় দেওয়া যাবে না; আইন সবার জন্য সমান।’

হেফাজতে ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের বিবৃতি

আল্লাহর অবমাননাপূর্বক মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের দায়ে ভণ্ড বাউল আবুল সরকারের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ভণ্ড বাউল আবুল সরকার প্রকাশ্যে আল্লাহকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও মিথ্যাচার করে স্থানীয় সচেতন মুসলমানদের প্রতিবাদের মুখে গ্রেপ্তার হয়েছেন, যা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি কাম্য নয়। মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের দায়ে আমরা উসকানিদাতা আবুল সরকারের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এভাবে ধর্মীয় উত্তেজনা সৃষ্টিকারী বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকে।

তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় প্রশাসনের কেউ স্থানীয় প্রতিবাদী আলেমসমাজ ও ধর্মপ্রাণ জনতাকে হয়রানি করলে তার পরিণতি ভালো হবে না বলে আমরা কঠোরভাবে সরকারকে হুঁশিয়ারি দিচ্ছি। ধর্ম অবমাননার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, স্যোশাল মিডিয়ায় এক ভিডিওতে সচেতন বাউলশিল্পীরাও আবুল সরকারের ইসলামবিরোধী কথাবার্তার সমালোচনা করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ফলে আবুল সরকারের ইসলাম অবমাননার বিষয়টি আড়াল করার সুযোগ নেই। আমাদের প্রশ্ন— ভণ্ড বাউল আবুল সরকারের পক্ষে দাঁড়ানো সেক্যুলার প্রগতিশীলরা কি সমাজে ধর্ম অবমাননা করার অধিকার চান?

হেফাজত মহাসচিব আরো বলেন, তাসাউফ বা সূফিবাদ ইসলামের আত্মদার্শনিক রূপ। কিন্তু বাউলবাদের আড়ালে কারো ইসলাম বিকৃতি ও অবমাননা সমর্থনযোগ্য নয়। কথিত বাউল আবুল সরকারের সুস্পষ্ট ধর্ম অবমাননা সত্ত্বেও তার পক্ষে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদী মুসলমানদের কলঙ্কিত করা এদেশে ইন্ডিয়ার স্বার্থ রক্ষার শামিল। এ ঘটনায় ইন্ডিয়াপন্থী উগ্র বামরাও সরব হয়েছে। জুলাই বিপ্লব বানচাল করতে ইন্ডিয়ার চক্রান্তে দেশে যেকোনো অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা প্রতিহত করা হবে ইনশাআল্লাহ।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ। ধর্ম সম্পর্কে তাদের অনুভূতি খুবই সংবেদনশীল। এই সুন্দর ও উত্তম নাগরিক বৈশিষ্ট্যটি ব্যবহার করেই কুচক্রী মহল বারংবার অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা করেই যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় বাউল আবুল হোসেন মহান আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে অশালীন-অশ্লীল মন্তব্য করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করেছে আর এখন আরেকদল সেই সুযোগে স্বার্থ হাসিলের নোংরা খেলায় মেতে উঠেছে। ইসলামী আন্দোলন মনে করে, দেশের এই ক্রান্তিকালে আমাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক ঐক্য বিনষ্ট করার এক গভীর চক্রান্তের অংশ এটা। ফলে যারাই সমাজে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব বলেন, বাউলকাণ্ডে প্রতিক্রিয়াকে বড় করে দেখানো হচ্ছে। বাউল আবুল হোসেনের ধৃষ্টতামূলক মন্তব্যকে আমলে না নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় জনতা কি করেছে তা প্রধান করে তোলা হয়েছে। অথচ বাউল আবুল হোসেন যে অশ্লীল ও অশালীন মন্তব্য করেছে তা সীমাহীন অপরাধ। মানুষের বাকস্বাধীনতা আছে কিন্তু কাউকে অপমান করা, কারো বিশ্বাসকে আঘাত করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বাউল আবুল হোসেন সেই অপরাধ করে পরিস্থিতি উস্কে দিয়েছে। তাই বাউল আবুল হোসেন এবং এখন যারা তার পক্ষ নিচ্ছেন তাদের কোন রাজনৈতিক হীন অভিলাষ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে। এবং এই ঘটনায় সাধারণ জনতার ওপরে দোষারোপের রাজনীতি চলছে, পুলিশি হয়রানীর যে পাঁয়তারা চলছে তা রোধ করতে হবে।

অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ সকলের প্রতি আহবান রেখে বলেন, যে কোন ঘটনায় আমাদের বস্তুনিষ্ট দৃষ্টিতে দেখতে হবে। ইনসাফের সাথে পক্ষ বাছাই করতে হবে। এবং প্রতিটি ঘটনার ক্রিয়া ও তার প্রতিক্রিয়া কি, কারা এর দ্বারা লাভবান হচ্ছে তা বিবেচনায় নিতে হবে। জাতির এই ক্রান্তিকালে সতর্কতার সাথে সকলকে ভূমিকা নির্ধারণ করতে হবে।

সাম্প্রতিক তদন্ত—বাউলবাদের অন্ধকার দিক

এ ঘটনার পাশাপাশি পুরোনো গবেষণা ও পাণ্ডিত্যপূর্ণ গ্রন্থ থেকে “বাউল সমাজের বিকৃত তন্ত্র, যৌনাচার ও তথাকথিত সাধনা” নিয়ে নতুন বিতর্কও জোরালো হয়েছে।

বাংলার মাটি, নদী, মানুষ ও মরমিয়া দর্শনের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে আছে বাউলবাদ। একসময় বাউলরা ছিলেন লোকবিশ্বাস, গান, ভক্তি ও অভিজ্ঞতার ধারক—তারা ছিলেন সমাজের ‘বাইরের মানুষ’, কিন্তু এ অঞ্চলের সংস্কৃতি, শ্রমিক-প্রান্তিক সমাজ ও লোকদর্শনের সাথে গভীরভাবে জড়িত। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে বাউলবাদকে কেন্দ্র করে যৌনাচার, তন্ত্র, মাদকতা, গোপন কৌমবাদের অভিযোগ নতুন করে আলোচিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক বিতর্কে বাউল শিল্পী আবুল সরকারের কটূক্তি–বিতর্ক এ অন্ধকার দিকগুলোকে আরও সামনে এনেছে।

বাউলবাদের মূল দর্শন: ভক্তি, মরমি গীত ও দেহতত্ত্ব

ঐতিহাসিকভাবে বাউলবাদের মূল শিকড় তিন উৎসে—

  • সুফি–মরমিয়া ধারা
  • ভক্তিবাদ ও বৈষ্ণব দর্শন
  • লোকজ দেহতত্ত্ব ও আধ্যাত্মিকতা

বাউল দেহতত্ত্বে মানুষের শরীরকে বলা হয় “সন্ধানঘর”—যেখানে সাধনার মাধ্যমে আল্লাহ/হরি/মানুষের সঙ্গে একাত্মতা পাওয়া যায়। এই বিশ্লেষণে দেহ–মন–আত্মার অভিজ্ঞতা গুরুত্ব পায়।

কিন্তু গবেষকরা বলেন, এ দেহতত্ত্বের নামই ব্যবহার করে এক সময় কিছু বাউল গোষ্ঠী তন্ত্রসাধনা, যৌনাচার এবং নেশার মাধ্যমে আধ্যাত্মিকতা লাভের ব্যাখ্যা দাঁড় করায়। এখান থেকেই শুরু বিকৃতি।

বাউলতত্ত্বে বিকৃতি: প্রাচীন গবেষণা যেসব অন্ধকার দিক প্রকাশ করে

ঐতিহাসিক নথি ও গবেষণা গ্রন্থে দেখা যায়—১৮০০ সালের পর থেকে বাংলার কিছু ‘তান্ত্রিক বাউল গোষ্ঠী’ গোপন “দেহসাধনা”কে বিকৃত যৌনাচারের দিকে নিয়ে যায়।

উল্লেখযোগ্য গবেষকরা যেসব বিষয় তুলে ধরেছেন—

(ক) অক্ষয় কুমার দত্ত

  • বাউলদের মধ্যে মদ্যপান, গাঁজা, আফিম ব্যবহারের বর্ণনা দেন।
  • কিছু গোষ্ঠীর গুহ্যসাধনা প্রক্রিয়া “নিষ্ঠুর ও অনৈতিক” বলে উল্লেখ করেন।

(খ) আবূ তাহের বর্ধমানী

তার উল্লেখে পাওয়া যায়—

  • ত্রিবেণী সাধনা — মল, মূত্র ও বীর্য মিশিয়ে সাধনা
  • পঞ্চামৃত — বীর্যের সঙ্গে দুধ, দই, মধুর মিশ্র পান
  • লাল সাধন — ঋতুরক্ত পান করে “শক্তি অর্জন” বিশ্বাস
  • প্রেমভাজা — বীর্য মিশ্রিত ময়দা দিয়ে রুটি তৈরি

গবেষকদের মতে এগুলো তান্ত্রিক-বামাচারীদের প্রভাব, মূল বাউলবাদের নয়।

(গ) মুনশী ফছিহউদ্দীন

তিনি বর্ণনা করেন—

বাউলদের মধ্যে গোপন যৌনসঙ্গমের মাধ্যমে সাধনা

একাধিক নারীকে ‘সাধনা সহযোগী’ বানানোর প্রবণতা

নারী–পুরুষের ‘রহস্যময় সঙ্গম’কে মুক্তির পথ হিসেবে দেখানো

এ গবেষণার সারকথা হলো—
বাউলবাদ নয়, বাউলবাদের ভেতরে ঢুকে পড়া বিকৃত তন্ত্রই যৌনাচারের পথ খুলে দেয়।

মাদকতা: বাউল দর্শনে নাকি বিকৃত সংস্কৃতি?

ঐতিহাসিক বাউল গানগুলোতে “হুঁক্কা, গাঁজা”র উল্লেখ আছে, কিন্তু তা অধিকাংশ সময় লোকজ রস, ব্যঙ্গ, ও জীবনের কষ্টের প্রতীক।
কিন্তু বিকৃত বাউল গোষ্ঠীগুলো এটিকে সাধনার অবিচ্ছেদ্য অংশ বানিয়েছে।

গবেষণায় উঠে এসেছে—

  • গাঁজাকে ‘মুক্তির সহায়ক’ হিসেবে প্রচার
  • গান–আসরে নেশা নেওয়ার স্বীকৃতি
  • মাদকতা দিয়ে ‘উন্মাদনা’ সৃষ্টি
  • তন্ত্রসাধনা ও যৌনাচারে নেশার ব্যবহার

এসব প্রকাশ্যে আলোচনায় আসায় বাউল সম্প্রদায়ের অংশবিশেষ তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগসূত্রের অভিযোগ

এদিকে নতুন করে উঠে এসেছে আরেক বিতর্ক—ইসলাম ও আল্লাহকে নিয়ে কটূক্তকারী বাউল শিল্পী আবুল সরকারকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচনের পর দলটির বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হতো।

অনুষ্ঠানগুলোতে শেখ মুজিব ও তার কন্যা গণহত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত স্বৈরশাসক হাসিনাকে নিয়ে গানও গাইতেন। সম্প্রতি এরকম একটি গান সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। মুজিব, হাসিনা ও নৌকার গুণকীর্তন করে গাওয়া আবুল সরকারের এই গানটি ২০২৪ সালের মার্চে ‘গানের পাখি বিডি’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করা হয়।

গান প্রকাশের সময়কাল অনুযায়ী ধারণা করা হচ্ছে, ২০০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ডামি নির্বাচনের পর আবুল সরকার গানটি গেয়েছিলেন। এছাড়া অনুষ্ঠানের ব্যানারে যে লেখা দেখা যাচ্ছে তাতে স্পষ্ট, অনুষ্ঠানটি টাঙ্গাইলে হয়েছিল। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইল-৭ মির্জাপুর আসনে জয় লাভ করা আওয়ামী লীগের প্রার্থী খান আহমেদ শুভ।

ওই অনুষ্ঠানেই আবুল সরকারের কণ্ঠে ভেসে উঠে-

‘ইতিহাসের রাখাল রাজা বঙ্গবন্ধুর নায়

আয় বাঙালি জলদি কইরা আয়

তোরা আয়, আয়রে আমার শেখ হাসিনার নায়’।

ফ্যাসিস্ট এমপি মমতাজ বেগমকে মা ডাকতো আবুল সরকার

এছাড়া. স্থানীয় সূত্র এবং অনলাইন মিডিয়ার প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আবুল সরকার দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ–সমর্থিত সাংস্কৃতিক মহলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিশেষভাবে তিনি নড়াইল-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জনপ্রিয় শিল্পী মমতাজ বেগমকে ‘মা’ বলে ডাকতেন এবং তাঁর অনুসারী হিসেবে পরিচয় দিতেন বলেও আলোচনায় এসেছে। এ নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক শিবির ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন—ধর্মীয় কটূক্তিকারীর পেছনে কারা ছিল, এবং তাঁকে কে বা কারা ‘প্রশ্রয়’ দিয়েছে।

পুরুষ বাউলদের বিরুদ্ধে নারী শিল্পীর বিস্ফোরক অভিযোগ

এদিকে আবুল সরকার গ্রেফতার হওয়ার পর পুরুষ বাউল শিল্পীদের নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বাউল শিল্পী হাসিনা সরকার। তিনি বলেছেন, নারী বাউল শিল্পীরা বিছানায় না গেলে তাদের কোনো প্রোগ্রামে ডাকা হয় না। এমনকি তিনি নিজেও এরকম পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন বলে জানান।তবে যাদের বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগের আঙুল তুলেছেন তাদের নাম উল্লেখ করেননি।

হাসিনা সরকার বলেন, বাউলদেরকে বলতাম- আমার তো প্রোগ্রাম নাই, আমার দিকে একটু খেয়াল রাইখেন। তখন তারা বলেন, ‘যদি খেয়াল রাখতে হয় তাহলে কথা শুনতে হবে। যখন ডাকি তখন আসতে হবে’। আমি বলি- ‘আসলে কী হবে’? তখন তারা বলেন- ‘এইটা কি ভেঙে (খুলে) বলতে হবে’।আমি তখন বলেছি- ‘মাফও চাই, দোয়াও চাই।ওই ধরনের প্রোগ্রাম আমার দরকার নাই। আমার ইজ্জত বিক্রি করে আমার প্রোগ্রোম নিতে হবে না। এটাকে বাউল গান বলে না।

তাকেও পুরুষ বাউল শিল্পীরা কুপ্রস্তাব দিতেন দাবি করে এই নারী বাউল বলেন, তারা বেডে (বিছানা) নেয়, আর গান গাওয়ার সুযোগ দেয়। আমি বাউল শিল্পী হয়ে বলছি- এখন বাউল জগতের এরকম পরিস্থিতি হয়ে গেছে। আমাকে যদি কেউ না ডাকে, বায়না না দেয়, আমার কেউ খোঁজখবর না নেয়, তাও আমার কিছু যায় আসে না।আমাকেও বাউলরা এরকম (কুপ্রস্তাব) প্রস্তাব দিয়েছেন, তারা বলেছেন- ‘আমাদের কথা শুনবি, তোকে বায়না দেব’।

হাআমা/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222