আব্দুল্লাহ কাসিম আজওয়াদ >>
বাউল শিল্পী আবুল সরকারের মহান আল্লাহ তায়ালাকে নিয়ে কটূক্তিমূলক বক্তব্য প্রকাশের পর দেশজুড়ে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, আলেমসমাজ ও সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। অভিযোগ উঠেছে—ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় অনুভূতি উসকে দিয়ে অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা চলছে। এই পরিস্থিতিতে ইসলাম ও ধর্মীয় মূল্যবোধ নিয়ে কটূক্তিকারীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানালেন আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও জুলাই নায়ক এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম।
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ওয়ার্ল্ড মুসলিম উম্মাহ আয়োজিত “বিশ্ব মুসলিম ঐক্য এবং দ্বন্দ্ব” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান বলেন, “অশিক্ষিত বাউল নামধারীর মতো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এসব কাজ করা হচ্ছে। যারা ইসলাম নিয়ে কটূক্তি করে তাদের শুধু ইসলাম বিদ্বেষই নয়; এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও থাকে। তারা দেশে অস্থিরতা তৈরি করতে চায়।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের দায়িত্ব এসব অপরাধের প্রতিবাদ জানানো, তবে অবশ্যই শান্তিপূর্ণভাবে। সহিংসতা ঘটলে আবার আমাদের ওপর জঙ্গিবাদের ট্যাগ লাগিয়ে দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার কৌশল করা হয়।”
আলোচিত বাউল কাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কিছু ‘বাউল নামধারী’ ব্যক্তি ধর্ম সম্পর্কে অজ্ঞ থেকেও ইসলাম নিয়ে কটূক্তি করেন, যা মুসলমানদের ঈমানী অনুভূতিতে আঘাত করে। তবে তিনি সতর্ক করেন, “প্রতিবাদ করতে গিয়ে যেন জুলুম না হয়। আধিপত্যবাদী শক্তি এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলো বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা চায় না—এটিও মাথায় রাখতে হবে।”
সেমিনারে জুলাই নায়ত এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, “যারা প্রকাশ্যে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ বিকৃত করে, কথার অর্থ বদলে দেয়, বা স্বয়ং সৃষ্টিকর্তাকে হেয় করে—এদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে সৃষ্টিকর্তা শ্রদ্ধার প্রথম স্থানে। কেউ কোনো ধর্মকে না-মানতে পারে, কিন্তু সেই ধর্মকে বিকৃত করার অধিকার কারো নেই। এতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে কটূক্তিকারীদেরকেই দায় নিতে হবে।”
সারজিস আলম ভবিষ্যতে এমন ধৃষ্টতা রোধে কঠোর নজরদারি ও আইন প্রয়োগের আহ্বান জানান, একইসঙ্গে জনগণকে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার পরামর্শ দেন।
হাআমা/
