দেশে কেন ফিরছেন না তারেক রহমান, যা জানা গেল

by hsnalmahmud@gmail.com

আমানুল্লাহ নাবিল মামদুহ >>

বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন—তার দেশে ফিরতে কোনো আইনগত বা প্রশাসনিক বাধা নেই। তবুও তিনি কবে ফিরবেন—তা এখনও অনিশ্চিত।

বিজ্ঞাপন
banner

ষড়যন্ত্র ও নিরাপত্তা–ঝুঁকি: বিএনপি নেতাদের উদ্বেগ

বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে—তারেক রহমানকে ঘিরে দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্রের শঙ্কা রয়েছে। তাদের মতে, পাকিস্তানের বেনজির ভুট্টোর মতোই—দেশে ফিরলে তারেক রহমানকে হত্যার টার্গেটে রাখতে পারে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ বা প্রশাসনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা তাদের সহযোগীরা।
ফলে ব্যক্তিগত নিরাপত্তাই এখন তার ফেরার পথে সবচেয়ে বড় বিবেচ্য।

দেশে ফিরতে কোনো বাধা নেই, সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস আইন উপদেষ্টার

তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘তারেক রহমানের দেশে ফেরার ব্যাপারে আইনগত কোনো বাধা আছে বলে আমার জানা নেই। যদি কোনো বিধিনিষেধ থাকে, তা দূর করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। দেশে ফিরলে তাকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারেক রহমান নিজেই একজন অভিজ্ঞ ও বিচক্ষণ ব্যক্তি। তিনি ভালো বোঝেন, কোন সময় দেশে আসা উচিত এবং কোন সময় নয়। ফিরবেন কি ফিরবেন না—এ সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং তিনি উপযুক্ত সময়েই সিদ্ধান্ত নেবেন।”

আইন, সংবিধান ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আরও জানিয়েছেন, ‘তারেক রহমান চাইলে যেকোনো সময় দেশে ফিরতে পারবেন। সরকারের পক্ষ থেকে তাকে পূর্ণ সহযোগিতা এবং নিরাপত্তা দেওয়া হবে। কোনো মামলার জটিলতাও বর্তমানে নেই।’

পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারাও একই কথা বলেছেন—তিনি চাইলে এক দিনের মধ্যেই ট্রাভেল পাস এবং প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা যাবে। অর্থাৎ সরকারের পক্ষ থেকে তার দেশে ফেরার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।

কোনো মামলাজনিত জটিলতাও বর্তমানে নেই

পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন—তারেক রহমান চাইলে এক দিনের মধ্যেই ট্রাভেল পাসসহ সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে।

পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাও একই সুরে বলেছেন—তারেক রহমান ফিরতে চাইলে এক দিনের মধ্যেই ট্রাভেল পাসসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা সম্ভব। এতে বোঝা যাচ্ছে, সরকারের পক্ষ থেকে তার দেশে ফেরার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। তবে রাজনৈতিক ও পারিবারিক প্রেক্ষাপট তাকে ফেরার বিষয়ে অপেক্ষা করেই চলতে বাধ্য করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থতার সময় তারেক রহমান নিজেই বলেছেন, ফিরে আসার সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র তার ব্যক্তিগত নয়, বরং পরিবার ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের সঙ্গে পরামর্শ করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিএনপি’র অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো মনে করে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তা পরিবেশ এবং আসন্ন নির্বাচনের কৌশল—এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে তারেক রহমান “সঠিক সময়” বেছে নিতে চাইছেন। দেশে ফিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার ঝুঁকি এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা—এই দুই বিষয়ই বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

রাজনৈতিক–পারিবারিক প্রেক্ষাপটই মূল বাধা

বিশ্লেষকরা বলছেন—আইনগত ও প্রশাসনিক বাধা না থাকলেও রাজনৈতিক ও পারিবারিক প্রেক্ষাপট তারেক রহমানকে ফেরার বিষয়ে সতর্ক থাকতে বাধ্য করছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থতার সময়ও তারেক রহমান জানিয়েছিলেন—দেশে ফেরা শুধু তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়; পরিবার ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের সঙ্গে পরামর্শ করেই এ সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

বিএনপির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো মনে করছে—আসন্ন নির্বাচন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং দলের কৌশলগত প্রস্তুতি—এসব বিবেচনায় রেখে তিনি “সঠিক সময়” বেছে নিতে চাইছেন। দেশে ফিরলে উত্তপ্ত হতে পারে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট; এমন আশঙ্কাও রয়েছে।

ফেরার সিদ্ধান্ত শুধু আমার হাতে নয়: তারেক রহমানের সাম্প্রতিক ফেসবুক স্ট্যাটাস

তারেক রহমান ফেসবুকে লিখেছেন—‘বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ ও সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যায় রয়েছেন। তাঁর রোগমুক্তির জন্য দল-মত নির্বিশেষে দেশের সকল স্তরের নাগরিক আন্তরিকভাবে দোয়া অব্যহত রেখেছেন।’

এমন সঙ্কটকালে মায়ের স্নেহ স্পর্শ পাবার তীব্র আকাঙ্খা যে কোন সন্তানের মত আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সকলের মত এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। … রাজনৈতিক বাস্তবতার এই পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে উপনীত হওয়া মাত্রই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আমার সুদীর্ঘ উদ্বিগ্ন প্রতিক্ষার অবসান ঘটবে বলে আমাদের পরিবার আশাবাদী।”

ফেসবুক স্ট্যাটাসে তারেক রহমান স্পষ্ট করেছেন যে, পারিবারিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায়, দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত এখনো পুরোপুরি তার ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণাধীন নয়।

নির্বাচন ও ভোটার সম্পর্কিত তথ্য

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন—তারেক রহমান এখনো ভোটার হননি। তবে চাইলে ইসি তাকে ভোটার করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। নির্বাচন করতে পারা কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

তিনি আরও জানান, ‘আদালতের বিচারাধীন মামলাগুলো নিষ্পত্তি হওয়ায় তারেক রহমানের আইনগত অবস্থান আরও পরিষ্কার হয়েছে। এখন আদালত থেকেও কোনো বাধা নেই।’

দেশে ফেরার ইঙ্গিত দিলেন তারেক রহমান নিজেই

আর আগে দেশে ফেরা নিয়ে বিবিসি বাংলাকে দেওয়া দুই পর্বের সাক্ষাৎকারে খুব শিগগিরই লন্ডন থেকে দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেছেন—‘কিছু সঙ্গত কারণে হয়তো দেশে ফেরাটা হয়ে ওঠেনি এখনো। তবে সময়টা চলে এসেছে মনে হয়। ইনশাআল্লাহ দ্রুতই ফিরে আসব।’

তিনি আরও জানিয়েছেন, ফিজিক্যালি তিনি যুক্তরাজ্যে থাকলেও মন ও মানসিকতায় গত ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশে আছি।সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে—আইনগত বা প্রশাসনিক কোনো বাধা নেই, তবে পারিবারিক, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা‑সংক্রান্ত কারণে তারেক রহমান এখনো দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেননি।

রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন প্রশ্ন হলো—পরিবারের সংকটময় মুহূর্তে কিংবা নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি কখন দেশে ফিরবেন, আদৌ ফিরবেন কি না। এই প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে।

হাআমা/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222