আব্দুল্লাহ কাসিম আজওয়াদ >>
ভারত ছাড়া বাংলাদেশ ও চীনকে নিয়ে নতুন আঞ্চলিক জোট গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী ইশহাক দার জানান, এই ত্রিদেশীয় কাঠামো চাইলে আরও বড় পরিসরেও নেওয়া সম্ভব।
বুধবার ইসলামাবাদ কনক্লেভ ফোরামে দার বলেন, “আমরা লাভবান হব, কিন্তু কারও ক্ষতিতে নয়। সংঘাত নয়, সহযোগিতাই আমাদের অগ্রাধিকার।” তার বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট—সার্ক অকার্যকর হয়ে পড়ায় ইসলামাবাদ বিকল্প আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্মের পথ খুঁজছে।
গত জুনে চীন–পাকিস্তান–বাংলাদেশের কূটনীতিকদের মধ্যে আলোচনাও এই নতুন উদ্যোগের ভিত্তি তৈরি করেছে, যেখানে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা তুলে ধরা হয়।
বদলে যাওয়া দক্ষিণ এশিয়া: উত্তেজনা–দ্বন্দ্বে নতুন সমীকরণ
দর এই মন্তব্য করলেন এমন সময়, যখন দক্ষিণ এশিয়ায় উত্তেজনা তীব্র। কয়েক দশকের শত্রুতা বহন করা ভারত–পাকিস্তান সম্প্রতি চার দিনের যুদ্ধে জড়ায়। অন্যদিকে গণআন্দোলনের পর বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক নেমে গেছে তলানিতে। মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে ভারতের অস্বীকৃতিও দুই দেশের সম্পর্কে নতুন চাপ তৈরি করেছে।
ইশহাক দার জানান, গত ১১ বছর ধরে ভারত–পাকিস্তান সংলাপ স্থবির। তার ভাষায়, “আমাদের আঞ্চলিক অগ্রাধিকার কোনো এক দেশের অনমনীয়তার কাছে জিম্মি হওয়া ঠিক নয়। আপনারা জানেন আমি কাদের কথা বলছি।”
সার্ক কেন অকার্যকর হয়ে গেল
১৯৮৫ সালে ঢাকায় জন্ম নেওয়া সার্কে জনসংখ্যা ২০০ কোটির বেশি। কিন্তু আন্তঃবাণিজ্য মাত্র ৫%—যেখানে আসিয়ানে ২৫%।
বিশ্বব্যাংকের হিসেবে, বাধা কমালে সার্কভুক্ত দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ৬৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
তবে ভারত–পাকিস্তান টানাপোড়েন সার্কের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিয়েছে বহু আগেই। ২০১৬ সালের ইসলামাবাদ সম্মেলন বাতিল হওয়ার পর আর কোনো শীর্ষ সম্মেলন হয়নি।
বিশ্লেষকদের চোখে পাকিস্তানের নতুন উদ্যোগ
লাহোর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাবেয়া আক্তারের মতে, পাকিস্তানের পরিকল্পনা অতিমাত্রায় উচ্চাকাঙ্ক্ষী। তবে এটি স্পষ্ট যে ইসলামাবাদ সার্কের বাইরে নতুন ধাঁচের সহযোগিতা চাইছে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক প্রবীণ দোন্থি মনে করেন, সার্কের ‘নীরব মৃত্যু’ দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন জোটের সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের অবনতি পরিস্থিতিকে আরও সহজ করেছে।
বাংলাদেশ সেন্টার ফর ইন্দো-প্যাসিফিক অ্যাফেয়ার্সের শাবাব ইনাম খান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বাস্তবসম্মত সহযোগিতা গঠনে এ ধরনের উদ্যোগ জরুরি হয়ে উঠেছে, কারণ এলাকা বারবার নিরাপত্তা–কেন্দ্রিক রাজনীতিতে আটকে যাচ্ছে।
তবে রাবেয়া আক্তারের মতে, এ ধরনের জোটে অংশগ্রহণ ভারতবিরোধী নতুন রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—যা দক্ষিণ এশিয়ার ছোট দেশগুলো বিবেচনা করবে।
সম্ভাব্য প্রভাব
দোন্থির মতে, যদি এই ত্রিদেশীয় জোট সফল হয়, তবে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা তৈরি হতে পারে এবং ভারত–চীন প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে। যদিও বর্তমানে দেশগুলোর আগ্রহ থাকলেও আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা এখনো সীমিত।
হাআমা/
