হাসান আল মাহমুদ >>
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রথম দফায় ২৩৭টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল। এরপর ফাঁকা থাকা ৩৬টি আসনে নতুন প্রার্থী ঘোষণা করে দলটি। এর ফলে ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৭২টি আসনে বিএনপির প্রার্থী নাম প্রকাশ পেয়েছে।
প্রথম দফায় ফাঁকা রাখা বেশ কিছু আসনে এবার বিএনপি নিজস্ব প্রার্থী দেয়ার কারণে তাদের জোট বা আন্দোলনের শরিকদের ভাগ্যে কী আসে, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিএনপি-জোটে অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য দলগুলো আশা করেছিল, ফাঁকা আসনগুলোতে তাদের প্রার্থী অংশ নিতে পারবে।
বিএনপির একটি স্থায়ী কমিটির সদস্য জানান, “এখনও ২৮টি আসন ফাঁকা রাখা হয়েছে। শীঘ্রই শরিকদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে যতটা সম্ভব ছেড়ে দেওয়া হবে, বাকি আসনে বিএনপি নিজস্ব প্রার্থী দেবে।”
জোটভুক্ত দলের মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ভোটে অংশ নিতে চায় মূলত এই ফাঁকা আসনগুলোর মাধ্যমে। দলের প্রচার সম্পাদক মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী ৩৬ নিউজকে জানান, যদি বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা হয়, তবে এই আসনগুলোতে জমিয়তের প্রার্থীরা অংশ নিতে পারেন। সম্ভাব্য আসনের মধ্যে রয়েছেন:
- সিলেট-৫: সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক
- নীলফামারী-১: মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী
- ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২: সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব
- নারায়ণগঞ্জ-৪: যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মনির হোসাইন কাসেমী
- সিলেট-৪: আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাওলানা মোহাম্মদ আলী
- সিলেট-৬: মাওলানা ফখরুল ইসলাম
- সুনামগঞ্জ-১: মাওলানা মুখলেছুর রহমান চৌধুরী
- সুনামগঞ্জ-২: যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা ড.শুয়াইব আহমদ
- নড়াইল-২: মাওলানা তালহা ইসলাম
- কিশোরগঞ্জ-১: মুফতি মুহাম্মদ উল্লাহ জামী
- সুনামগঞ্জ-৩: মাওলানা হাম্মাদ গাজিনগরী
তবে জোট-শরিকদের সঙ্গে সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। জানা গেছে, বিএনপি শুধুমাত্র চারটি আসনে জমিয়তকে ছাড় দিতে রাজি: সিলেট-৫, নীলফামারী-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও নারায়ণগঞ্জ-৪।
জমিয়ত চেয়েছে সিলেট-৪ আসনে অ্যাডভোকেট মাওলানা মোহাম্মদ আলীর জন্যও ছাড়, কিন্তু ওই আসনে বিএনপি ইতিমধ্যে সিলেটের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এতে বিএনপি-জমিয়তের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। জমিয়তের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, বিএনপি থেকে ছাড় না পেলেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। উল্লেখ্য, তিনি আগে এই আসনে লড়াই করেছেন এবং একটি স্থিতিশীল ভোটব্যাংক রয়েছে।
এবারের নির্বাচনে ইসলামি দলগুলোর মধ্যে বেশির ভাগই জামায়াতে ইসলামী বলয়কে সমর্থন করলেও, এখনও বিএনপির সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। দেশের বেশির ভাগ আসনে নিজস্ব প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও, দলটি ভোটে অংশ নিতে চায় মূলত বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতার মাধ্যমে।
ভোটের তফসিলের ঘোষণা ঘনিয়ে আসলেও এখনও বিএনপি-জমিয়তের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এটি চূড়ান্ত হতে পারে।
হাআমা/
