ভারতের বাবরী মসজিদ শুধু একটি স্থাপনা নয়—এটি বহু শতক ধরে উপমহাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি, ঐতিহ্য ও ইতিহাসের প্রতীক। বিশ্ব মুসলিম সমাজের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মসজিদটি নতুন নির্মাণের পদক্ষেপ ভারতে ন্যায়, সাম্য ও সংখ্যালঘু অধিকার রক্ষায় ইতিবাচক বার্তা বহন করবে ইংশাআল্লাহ। সম্প্রতি ভারতের ঐতিহাসিক বাবরী মসজিদ নব-নির্মাণের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন জাতীয় ইমাম পরিষদ বাংলাদেশের সভাপতি ও ঢাকা গাউসিয়া মার্কেট জামে মসজিদের খতীব মুফতী আবদুল্লাহ ইয়াহ্ইয়া
আজ মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর ২৫ ঈ.) খুলনার দিঘলিয়া যুবসমাজের উদ্যোগে আয়োজিত বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কৃতজ্ঞতা জানান।
ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন: বাবরী মসজিদ (Babri Masjid) ভারতের উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় মুঘল সম্রাট বাবরের আদেশে সেনাপতি মীর বাকী ১৫২৮ ঈসায়ী সালে (৯৩৫ হিজরী) নির্মাণ করেছিলেন। নামকরণ করা হয় মোগল সম্রাট জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর–এর নামে। বহু শতক ধরে জায়গাটি মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। বাবরী মসজিদ ভারতীয় ইতিহাস, রাজনীতি ও সমাজে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল একটি বিষয়। স্বতন্ত্র শৈলীর একটি গুরুত্বপূর্ণ মসজিদ ছিল, যা মূলত স্থাপত্যে সংরক্ষিত ছিল। এটি দিল্লি সালতানাত প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরে বিকশিত হয়েছিল।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে ১৯৯২ সালে উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী কর্তৃক এটি ভেঙে ফেলা হয়, যা সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশে দাঙ্গা ও প্রচুর সহিংসতার জন্ম দেয়, তাতে হাজারো মানুষ নিহত হয়। ৯ নভেম্বর ২০১৯ সনে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে বলা হয়_ ১৫২৮ সালের নির্মাণে কোনো হিন্দু মন্দির ধ্বংসের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ১৯৯২ সালে মসজিদ ভাঙা ছিল অবৈধ কাজ। কিন্তু বিজিবি সরকার রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে তা ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিলে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়—বিতর্কিত ২.৭৭ একর জমি হিন্দুদের (রাম মন্দির ট্রাস্টের জন্য) দেওয়া হবে। আর মুসলিমদের জন্য অযোধ্যায় অন্য স্থানে ৫ একর জমি মসজিদ নির্মাণের জন্য বরাদ্দ হবে। যার বর্তমান অবস্থা হলো: বাবরী মসজিদের জায়গায় এখন রাম মন্দির নির্মিত হয়েছে। বিষয়টি পৃথিবীর মুসলিমদের জন্য খুবই লজ্জাজনক ও পীড়াদায়ক। এরই মধ্য দিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম নেতা মসজিদটি নব-নির্মাণের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। বিষয়টি ঈমানদারদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দেরও বটে। মুর্শিদাবাদে নব-নির্মাণাধীন বাবরী মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক, সাবেক তৃণমূল কংগ্রেস নেতা জনাব হুমায়ূন কবীর ও তার পাশে দাঁড়ানো ভারতীয় সকল নাগরিককে স্বাগত জানিয়ে গভীর কৃতজ্ঞতা ও ফুলেল শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন তিনি।
হাআমা/
