জাতির হেদায়েতের জন্য মহান আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসুল এবং তাদের ওপর আসমানি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। এই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব হলো আল-কোরআন। পবিত্র কোরআনের ১৫তম পারার ১৮ নম্বর সুরাটির নাম ‘সুরা কাহাফ’। আরবি ‘কাহাফ’ শব্দের অর্থ গুহা। মক্কায় অবতীর্ণ ১১০ আয়াতের এই সুরাটিতে ১২টি রুকু রয়েছে। ইসলামি বিধান ও হাদিসের আলোকে এই সুরা পাঠের অশেষ ফজিলত ও গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে। বিশেষ করে জুমার দিন এই সুরা তেলাওয়াত মুমিনের জীবনে বিশেষ রহমত ও নূর নিয়ে আসে।
হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করলে আল্লাহর বিশেষ রহমত ও প্রশান্তি বর্ষিত হয়। বুখারি শরিফের এক বর্ণনায় এসেছে, এক সাহাবি যখন সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করছিলেন, তখন তার বাড়িতে থাকা ঘোড়াটি হঠাৎ লাফালাফি শুরু করে। ওই সাহাবি শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য দোয়া করলে দেখেন একখণ্ড মেঘ তাকে ঢেকে নিয়েছে। পরবর্তীতে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বিষয়টি ব্যক্ত করলে তিনি জানান, এটি ছিল মূলত কোরআন তেলাওয়াতের কারণে নাজিল হওয়া বিশেষ প্রশান্তি বা সাকিনাহ। এছাড়া কিয়ামতের কঠিন দিনে এই সুরা তার পাঠকারীকে আলোকিত করবে।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ পাঠ করবে, তার পায়ের নিচ থেকে আসমান পর্যন্ত নূর প্রজ্বলিত হবে, যা কিয়ামতের দিন তার জন্য উজ্জ্বল আলো দেবে এবং দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।
পবিত্র কোরআন শুদ্ধভাবে তেলাওয়াত করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ। সময়ের অভাবে বা অন্য কোনো কারণে কেউ যদি পুরো সুরাটি পাঠ করতে সক্ষম না হন, তবে তার জন্য অন্তত প্রথম ১০ আয়াত পাঠের বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়েছে। হাদিসে এসেছে, দাজ্জালের ফেতনা হবে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর ফিতনা।
হযরত আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি সুরা কাহাফের প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফেতনা থেকে নিরাপদ থাকবে। তাই ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির পাশাপাশি দাজ্জালের ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে জুমার দিনে সুরা কাহাফ তেলাওয়াত ও এর প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ করা অত্যন্ত জরুরি ও ফজিলতপূর্ণ আমল।
টিএইচএ/
